
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার পিপরুল ইউনিয়নের আঁচড়াখালি গ্রামে বসবাসরত এক অসহায় পরিবারের জীবন যেন দারিদ্র্যের নির্মম প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। কখনো লাউয়ের পাতা সেদ্ধ করে, আবার কখনো শুধুই পানি খেয়ে সেহরি ও ইফতার করতে হচ্ছে তাদের।
জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে দুর্ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি জহুরুল ইসলাম। এরপর থেকেই তার স্ত্রী সেলিনা বেগমের কাঁধে নেমে আসে সংসারের পুরো দায়িত্ব। কিন্তু কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস না থাকায় পরিবারটি পড়ে যায় চরম দুর্দশায়।
পরিবারে রয়েছে দুইজন প্রতিবন্ধী মেয়ে, দুই বছরের একটি শিশু সন্তান, অসুস্থ স্বামী ও বৃদ্ধ শাশুড়ি—মোট ছয় সদস্যের এই পরিবার বর্তমানে অর্ধাহার-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। জরাজীর্ণ একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করা এই পরিবারের কাছে ঈদের নতুন কাপড় কেনা এখন শুধুই স্বপ্ন।
সরেজমিনে দেখা যায়, অভাবের তাড়নায় অনেক সময় শুধু পানি খেয়েই রোজা রাখছেন তারা। কখনো বা শাকপাতা আর সামান্য ভাতই তাদের একমাত্র ভরসা। লাউয়ের পাতা সেদ্ধ করে ইফতার করার সময় মায়ের পাশে বসে থাকে তার অসহায় দুই প্রতিবন্ধী কন্যা—যা যে কারও হৃদয়কে নাড়া দেওয়ার মতো দৃশ্য।
সেলিনা বেগম বলেন, “সন্তানরা ভালো খাবার চায়, কিন্তু আমার সেই সামর্থ্য নেই। অনেক সময় শুধু পানি বা শাকপাতা দিয়েই সেহরি-ইফতার করি। আমাদের দেখার এখন আর কেউ নেই।”
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করছে। বৃষ্টি হলে ঘরে পানি পড়ে, রোদে শুকাতে হয় ভিজে কাপড়। তাদের সহায়তায় এখনো তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
অসহায় এই পরিবারটি সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান মানুষের সহায়তা কামনা করেছে। সামান্য সহযোগিতাই ফিরিয়ে দিতে পারে তাদের বেঁচে থাকার আশা।
সহযোগিতার জন্য:
সেলিনা বেগম (বিকাশ): ০১৭৪৫২০৩৬১১
স্বামী: জহুরুল ইসলাম
ঠিকানা: আঁচড়াখালি পশ্চিমপাড়া, পিপরুল ইউনিয়ন, নলডাঙ্গা, নাটোর।