April 26, 2026, 5:43 am
শিরোনাম :
বনানীতে মাদক কারবারের অভিযোগ: উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা কসবার দ্বীন-ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামি আউয়াল গ্রেপ্তার নেত্রকোনায় সোমা আক্তার হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন, আসামিদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি রৌমারীতে জ্বালানি সংকট: চরম ভোগান্তিতে জনজীবন, বিপাকে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা দিরাইয়ে ২৫ লিটার চোলাইমদসহ যুবক গ্রেপ্তার দিরাইয়ে জন্ম নিবন্ধনে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ,ইউনিয়ন পরিষদের সচিব স্বপন তালুকদারের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে আনতে গিয়ে শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনে যুবকের মৃত্যু, মামলা দায়ের রাজশাহীতে হেযবুত তওহীদ ছাত্র ফোরামের বিভাগীয় সমাবেশ ‘অপরাজনীতিতে আর একটি প্রাণও অপচয় নয়’ নাইক্ষ্যংছড়িতে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ ও বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস পালিত রায়গঞ্জে বাসচাপায় প্রাণ গেল বৃদ্ধার

বনদস্যু আতঙ্কে উপকূলের জেলে পরিবারে নেই ঈদ আনন্দ

অভয়নগর প্রতিবেদক

দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। কিন্তু সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় জনপদে যেখানে আনন্দ-উৎসবের প্রস্তুতি থাকার কথা, সেখানে বিরাজ করছে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে দাকোপ, কয়রা ও শ্যামনগর এলাকার জেলে পল্লীগুলোতে বনদস্যুদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে প্রায়ই বনদস্যুদের কবলে পড়তে হচ্ছে। মুক্তিপণের ভয়, হামলার আশঙ্কা এবং চরম নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক জেলে এবার বনের নদী-খালে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। ফলে ঈদের আগে আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় পরিবারে ঈদ উদযাপন নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
জেলে রফিকুল ইসলাম বলেন, “এখন বনে মাছ ধরা নিরাপদ নয়। বনদস্যুদের অত্যাচার আর মুক্তিপণের ভয়ে আমরা যেতে পারি না। সন্তানদের জন্য নতুন জামা কিনবো কীভাবে, সেটাই চিন্তা।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে ও বাওয়ালী জানান, বনদস্যু নির্মূলে মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হলেও তা স্থায়ী সমাধান দিতে পারছে না। তারা অভিযোগ করেন, দস্যুদের হাতে জিম্মি হয়ে অনেক সময় অর্থ দিতে বাধ্য হন, না দিলে মারধর করা হয় এবং জাল-নৌকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয়দের দাবি, আত্মসমর্পণকারী অনেক বনদস্যু আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পশ্চিম সুন্দরবনে মজনু, শরীফ, দয়াল, রবিউল, দুলাভাই, জাহাঙ্গীর, আবদুল্লাহ, নানা ভাই, মঞ্জুর ও মাসুম বিল্লাহ বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করতে যাওয়া ছয় বনজীবীকে অপহরণের ঘটনায় আলামিন ও ইসমাইলসহ কয়েকজনকে নির্যাতনের পর মুক্তিপণের জন্য আটকে রাখা হয়। পরে কোস্টগার্ডের অভিযানে তাদের উদ্ধার করা হয়।
বন বিভাগ জানায়, জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে এককভাবে দস্যু দমন কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে ঈদের পর যৌথ অভিযান জোরদার করা হবে।
কয়রা কপোতাক্ষ কলেজের সাবেক অধ্যাপক আ.ব.ম আব্দুল মালেক বলেন, “নামমাত্র অভিযান নয়, স্থায়ীভাবে বনদস্যু নির্মূলে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে। উপকূলের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এ অঞ্চলে স্বস্তি ফিরবে না।”
র‍্যাব-৬ এর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ জানান, কোস্টগার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে সুন্দরবনে বনদস্যু ও জলদস্যু নির্মূলে যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উপকূলবাসীর মতে, ঈদ মানেই আনন্দ হলেও বনদস্যু আতঙ্কে সেই আনন্দ আজ ভয়ের আরেক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরে আসবে না।



ফেসবুক কর্নার