
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনী প্রধান আলী রেজা তাংসিরির নিহত হওয়ার খবরে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরাইল কাটজের দাবি, এটি কেবল একটি হামলা নয়, বরং ইরানের সামরিক কাঠামো দুর্বল করার পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান উত্তেজনায় ইরান একাধিক উচ্চপদস্থ সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হারিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। বাসিজ প্রধান গোলামরেজা সোলাইমানি, গোয়েন্দা মন্ত্রী ইসমাইল খাতিব এবং সর্বশেষ নৌ-প্রধান তাংসিরির নাম এই তালিকায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ক্ষতি একটি রাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানকে দুর্বল করে দিতে পারে।
তবে এর বিপরীতে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিও রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মৃত্যু ইরানের ভেতরে জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করতে পারে এবং সরকারকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্য জনসমর্থন জোগাতে পারে। এতে করে ইরান আলোচনার টেবিলে আরও অনমনীয় অবস্থান গ্রহণ করতে পারে।
আইআরজিসি-র প্রধান শক্তি তাদের আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হিজবুল্লাহ বা হুথির মতো মিত্র গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় থাকলে ইরান তাদের প্রভাব ধরে রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে পাল্টা বড় কোনো হামলা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের নীরবতা অনেক সময় বড় ধরনের প্রতিক্রিয়ার পূর্বাভাস হয়ে থাকে। যদি এই পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণমাত্রার সংঘাতের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
বিশ্লেষকদের মতে, এখন সবকিছু নির্ভর করছে ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর। তারা যদি কূটনৈতিক পথে এগোয়, তাহলে উত্তেজনা কমতে পারে। আর যদি সামরিক প্রতিক্রিয়া বেছে নেয়, তবে তা পুরো অঞ্চলকে একটি বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
বর্তমানে তেহরানের নীরবতা বিশ্ব রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যকে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।