
দেশে হামের (মিজলস) প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। চলতি মার্চ মাসেই এ রোগে অন্তত ২১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। সংক্রমণ বাড়তে থাকায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শিশু রোগীর চাপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, পাবনা ও নাটোরসহ অন্তত সাতটি জেলায় হামের সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে রাজশাহী বিভাগে মার্চের প্রথম তিন সপ্তাহেই ৭৭টির বেশি নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছে।
রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক রোগ হাসপাতালসহ বিভিন্ন শিশু হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের করিডোরে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। গত বছর যেখানে মোট ৬৯ জন হাম রোগী ভর্তি হয়েছিল, সেখানে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সেই সংখ্যা ২৫৫ ছাড়িয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, দেশে গত আট বছর ধরে বড় পরিসরে হামের টিকাদান অভিযান পরিচালিত হয়নি, যা সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করছে এবং এ খাতে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদানের ঘাটতি, আবহাওয়ার প্রভাব এবং জনসচেতনতার অভাব মিলিয়ে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত গণটিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতেও উত্তেজনা বিরাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে হামলার ঘটনায় কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশেও পড়তে পারে।
বাংলাদেশ সরকার উভয় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা এবং কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।