
বাংলাদেশে জীবনযাত্রার দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ বা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি। এর মধ্যে কিডনি রোগ এখন এক নীরব কিন্তু ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিনের কিছু অবহেলিত অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে কিডনির কার্যক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, পর্যাপ্ত পানি পান না করা, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ এবং প্রস্রাব চেপে রাখার মতো সাধারণ অভ্যাসগুলোই কিডনি ঝুঁকির প্রধান কারণ। শরীরে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে বর্জ্য পদার্থ জমে গিয়ে কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। একইভাবে অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ রক্তচাপ বৃদ্ধি করে, যা কিডনির ফিল্টারিং প্রক্রিয়াকে দীর্ঘমেয়াদে দুর্বল করে দেয়।
প্রস্রাব চেপে রাখার অভ্যাসকে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে, যা অবহেলা করলে কিডনিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এ প্রসঙ্গে স্টাফ রিপোর্টার সাদমান হাসান বলেন, “করপোরেট ও নগর জীবনের ব্যস্ততায় মানুষ এখন নিজের শরীরের প্রতি সবচেয়ে কম সময় দিচ্ছে। আমরা বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা শুনলেও, বাস্তবে ছোট ছোট অভ্যাসই বড় সংকট তৈরি করছে। কিডনি রোগের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক, কারণ এটি দীর্ঘ সময় নীরবে ক্ষতি করে যায়।”
চিকিৎসকদের মতে, কিডনি সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণগুলো প্রায়ই উপেক্ষিত হয়। অস্বাভাবিক ক্লান্তি, শরীরের বিভিন্ন অংশে ফোলাভাব, প্রস্রাবের রঙ বা পরিমাণে পরিবর্তন, খিদে কমে যাওয়া এবং বমি বমি ভাব—এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কিডনি সুরক্ষায় একটি সমন্বিত লাইফস্টাইল অনুসরণের ওপর জোর দিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা, লবণ ও চিনি গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ, প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করা। পাশাপাশি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, কিডনি রোগ প্রতিরোধে ব্যক্তি পর্যায়ের সচেতনতার পাশাপাশি করপোরেট ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়েও স্বাস্থ্যবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসচেতনতা কর্মসূচি, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং লাইফস্টাইল ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ এই ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত—কিডনি সুস্থ রাখা শুধু ব্যক্তিগত দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি সামগ্রিক সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ। সময়মতো সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণই পারে এই নীরব ঝুঁকি থেকে আগামী প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে।