
বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনটি পৃথক আইসোলেশন কক্ষে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলছে এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় আরও আইসোলেশন কক্ষ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর।
হাসপাতালের কনফারেন্স কক্ষে শিশু বিভাগের চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট স্টাফদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ মার্চ থেকে প্রথম তলার আইসোলেশন ওয়ার্ডের দুটি কক্ষ এবং দ্বিতীয় তলার শিশু ইউনিট-১ এর একটি কক্ষে হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এসব কক্ষে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহসহ সব ধরনের চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। শিশু বিভাগের তিনটি ইউনিটেই চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া জরুরি বিভাগে রোগী ভর্তি হওয়ার সময়ই হামের লক্ষণ শনাক্ত করে দ্রুত পৃথক আইসোলেশন কক্ষে স্থানান্তরের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো যায়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি মার্চ মাসে এ পর্যন্ত ৯৩ জন হামে আক্রান্ত শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৩৩ জন শিশু।
শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. বিকাশ চন্দ্র নাগ জানান, হামের চিকিৎসায় হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ ও অক্সিজেন সরবরাহ রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে রোগটি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করতে পারে, যেমন ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, চোখের সংক্রমণ কিংবা মস্তিষ্কে প্রদাহ। এসব জটিলতায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাই-ফ্লো অক্সিজেনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানান, বসন্তকালে সাধারণত হামের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। রোগের লক্ষণ হিসেবে জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া, গলা ব্যথা, দুর্বলতা, ডায়রিয়া এবং কয়েকদিন পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়।
হাম প্রতিরোধে চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো—শিশুর জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো এবং পরবর্তীতে পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা। সময়মতো টিকা গ্রহণই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে উল্লেখ করেন তারা।