বৃহস্পতিবার প্রথম পরীক্ষাটা বেশ ভালো ভাবেই দিতে পেরেছে মেলোডি। দ্বিতীয় পরীক্ষাটা পড়েছে রবিবারে। তার আগে শুক্র-শনিবার বন্ধ। বাবা-মা বাড়িতে না থাকায় প্রতি উইকেন্ডের মতো উৎসবের আমেজ নেই বাসায়। যদিও সেই শুক্রবার জামালপুরে তার বোনের বিয়ের দিন, শনিবার রিসেপশন। তার আগে বাগদান, মেহেন্দি আর সংগীতের অনুষ্ঠান হয়েছে ঢাকারই এক কমিউনিটি সেন্টারে। বন্ধু বান্ধবীদের নিয়ে সেসব অনুষ্ঠানে দারুণ মজা করেছে মেলোডি। তাই তার খুব একটা আফসোস হচ্ছে না আপুর বিয়েতে থাকতে না পারার জন্য।
তবে ছোট্ট থাকতেই সে সারাক্ষণ গুনগুন করে গান গাইতো,
” এমন মজা হয় না,
গায়ে সোনার গয়না।
বুবু মনির বিয়ে হবে
বাজবে কতো বাজনা। “…
আহা, জড়োয়ার ঝুমকো, টিকলি, সিঁথি, নুপূর আর সীতাহার, বেনারসী, চন্দনে না জানি আপুকে কনের বেশে কতো সুন্দর লাগছে। আপুর বর কিন্তু বেশ ভালোই হ্যান্ডসাম। এসব ভাবতে ভাবতে দুপুরের খাবার খেয়ে নিয়ে, বিছানায় শুয়ে শুয়ে মাসুদ রানা সিরিজের
ঘুমানোর ৫/৬ মিনিটের মধ্যেই মেলোডি তার সাব-কনশাস মাইন্ড মানে অবচেতন মনে থাকা স্ট্রিং থিওরীর ২য় সূত্র নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করলো। স্ট্রিং থিওরীর ২য় সূত্র হচ্ছে – ওয়ান ডাইমেনশন বা প্রথম মাত্রার জগৎ। সে জগতে আছে শুধু দৈর্ঘ্য, রেখা বা লেন্থ। ফার্স্ট ডাইমেনশনের এই জগতে সবাই শুধু সামনে পেছনে চলাচল করতে পারে। শরীরের রক্তপ্রবাহ, বৃষ্টি, পানির সরাসরি প্রবাহ এই জগতের উপাদান।
আসলে মাল্টিভার্সের বা অসীম মহাবিশ্বের বিভিন্ন মাত্রায় অবস্থান করা, নানান দৃশ্যমান ও অদৃশ্য বস্তুর স্তরবিন্যাস বা মাত্রা থাকার বিষয়টি, মেলোডির মনে এতো গভীর ভাবে ছাপ ফেলেছে যে, ঘুমের মধ্যে পরপর ক’দিন বিভিন্ন মাত্রার জগতে, নিজেকেই দেখতে পাচ্ছে সে।