
( ২ য় অধ্যায় – ৩য় পর্ব )
এভাবে এক সময় রক্ত বিন্দু মেলোডি ছড়িয়ে পড়লো, রোগীর পা থেকে মস্তিষ্কের নিউরনে।
মাথায় রক্ত পৌছানো মাত্র, রোগীর নিউরো ট্রান্সমিটার গুলো যেন, আনন্দে নেচে উঠলো পাগল পারা হয়ে। কখনো তারা রবীন্দ্র সংগীতের তালে নাচে, কখনো নজরুল, ভাটিয়ালি, কাওয়ালী, গজলের তালে, আবার কখনো র্যাপ, ওয়ালটজ, বিটলস, মাইলি সাইরাস কিংবা সেলিন ডিওনের কন্ঠে টাইটানিক থিম সং এর ছন্দে ছন্দে।
এতোসব ঘূর্ণিপাক নৃত্যের ছন্দের তোড়ে, কোমা থেকে জেগে উঠলো সেই অচেতন রোগী। ডাক্তাররা যার জীবনের আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। সে খবর মুহূর্তে পৌঁছে গেলো আইসিইউ এর বাইরে থাকা রোগীর স্বজনদের কাছে। তাদের কেউ কেউ দু’হাত তুলে মহান আল্লাহ পাকের দরবারে শুকরিয়া আদায় করলেন। কেউ আবার খুশিতে কেঁদে উঠলো। রোগীর স্ত্রী আবেগ সামলাতে না পেরে মূর্ছা গেলেন।
রক্তবিন্দু মেলোডি রোগীর শরীরের কোষে কোষে ছড়িয়ে থেকেই, অজানা এক টেলিপ্যাথির মাধ্যমে জানতে পারছে এসব। এসময় রোগী তৃষ্ণার্ত বোধ করে পানি পান করতে চাইলেন। দায়িত্বরত নার্স তাকে একগ্লাস পানি এগিয়ে দিলেন। ঢকঢক করে এক চুমুকে রোগী পান করলেন তা। পানি পান শেষে পাশের টেবিলে গ্লাস রাখতে গিয়ে, তার হাত কেঁপে গিয়ে মুখ থেকে কিছু পানি পড়ে গেলো বিছানায়। আর কোটি কোটি রক্তবিন্দু মেলোডি সেই সুযোগে, পানি হয়ে বেরিয়ে পড়লো সেই রোগীর শরীর থেকে। বাপরে! মানুষের শরীরের ভেতরটা এতো উত্তপ্ত। মনে হয় যেন আস্ত একটা হাবিয়া দোজখ।
এসময় বাসায় কারেন্ট চলে যাওয়ায়, মেলোডির ঘুম ভেঙে গেলো। গরমে ঘেমে ভিজে গেছে তার পরনের কামিজ। মাথার উপর ফ্যানটা ঘুরছে না। তৎক্ষনাৎ মেলোডির মনে পড়লো, একটু আগেই সে স্বপ্নে একজন মুমূর্ষু রোগীর শরীরের কোষে কোষে, রক্তবিন্দু হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলো। আচ্ছা, তারপর সেই রোগীর শরীর থেকে, সে বের হলো কিভাবে? তার স্বপ্নের প্রথম অংশটুকু মনে থাকলেও, শেষ অংশটা মনে করতে পারলো না। তাই কিছুক্ষন ঘুম ভাঙা ঘোরে নিয়ে থম ধরে বিছানায় বসে রইলো সে।
তারপর রেনু খালা এলেন চা নিয়ে। সাথে মুচমুচে করে ভাজা সবজি পকোড়া। হাতমুখ ধুয়ে সবজি পকোড়া খেতে খেতে, মেলোডির চিন্তা থেকে হারিয়ে গেলো, কিছুক্ষন আগে দেখা সেই স্বপ্ন। মাগরিবের আজানের সুমধুর সুরে মেলোডির মনে পড়লো, আজ রাতে জামালপুরে তার বোনের বিয়ে। ইশ, বধূর সাজে কতোই না সুন্দর লাগবে আপুকে। ভাবতে ভাবতে একটা গভীর দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো মেলোডির বুকের গভীর থেকে।