June 3, 2026, 11:10 pm
শিরোনাম :
ট্রাক্টরের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধর , চালক আটক টাঙ্গাইলে মাদকসহ গ্রামবাসীর হাতে আটক কুখ্যাত মাদক কারবারি ছবুর মহাসড়ক যখন ধান শুকানোর চাতাল: রৌমারীতে বাড়ছে মৃত্যুফাঁদের ঝুঁকি কটিয়াদীতে এ.কে বাশার রতন হত্যা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে ফের হামলার অভিযোগ, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জবি রোভার স্কাউট গ্রুপের আয়োজনে ৫৩৫তম স্কাউট ইউনিট লিডার বেসিক কোর্সের উদ্বোধন বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে ঝিনাইদহে র‌্যালি ও সচেতনতামূলক আলোচনা ভোররাতের আগুনে পুড়ল হোটেল ও তেলের দোকান, ক্ষতি প্রায় ৫০ লাখ টাকা দুস্থদের মাঝে ১০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা বিতরণ মায়ের কঙ্কালসার দেহ আর সফল সন্তানদের বিবেক: এক নির্মম সামাজিক বাস্তবতা নওগাঁয় মাদক ব্যবসার অভিযোগে ক্ষোভ, অভিযুক্ত নারীকে ঘিরে প্রশ্ন

সুন্দরবনে বেপরোয়া বনদস্যু বাহিনী: জেলেদের ওপর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ

অভয়নগর প্রতিবেদক

সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বনদস্যুদের তৎপরতা। দস্যু বাহিনীর পুনরুত্থানের খবরে উপকূলীয় অঞ্চলের বনজীবী ও শ্রমজীবী মানুষের মাঝে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে মধু আহরণ মৌসুম শুরু হলেও দস্যু ভয়ে বনের ভেতরে প্রবেশ করতে সাহস পাচ্ছেন না মৌয়ালরা। একইভাবে জেলে ও বাওয়ালীরাও চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় জেলে ও বাওয়ালীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও দস্যু দমনের ফলে সুন্দরবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল। তবে গত এক বছরে পরিস্থিতির আবার অবনতি হয়েছে। বনদস্যুরা জেলেদের জিম্মি করে অর্থ আদায়, হুমকি এবং নির্যাতন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মধু আহরণ মৌসুম শুরু হওয়ায় দস্যুদের তৎপরতা আরও বেড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন দস্যু চক্র নতুন করে সংগঠিত হয়ে জেলেদের ট্রলারে হামলা, অপহরণের হুমকি এবং চাঁদাবাজি করছে। নাম পরিবর্তনসহ নানা কৌশলে তারা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। একটি সূত্র জানায়, গত ৭ এপ্রিল সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় আতিয়ার রহমান নামে এক কাঁকড়া জেলে গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর সম্পৃক্ততা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
জেলেদের দাবি, কোনো কোনো দস্যু বাহিনী কেবল অর্থ আদায় করেই ক্ষান্ত থাকলেও অন্যরা চরম নির্যাতন চালাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রতি নৌকায় ১ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হচ্ছে, যা অধিকাংশ মৌয়াল ও জেলেদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়।
মৌয়ালরা জানান, বছরের এই সময়টি মধু সংগ্রহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু জীবনের ঝুঁকির কারণে অনেকেই বনে যেতে পারছেন না। ফলে জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল জোরদার করা হয়েছে। বনরক্ষী বাহিনীর পাশাপাশি কোস্ট গার্ড ও নৌ-পুলিশও সক্রিয় রয়েছে।
তবে বনজীবীদের দাবি, শুধু টহল নয়—গহীন বনে দস্যুদের আস্তানা চিহ্নিত করে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে। অন্যথায় সুন্দরবননির্ভর হাজারো পরিবার জীবিকার সংকটে পড়বে এবং সরকারও বিপুল রাজস্ব হারাবে।



ফেসবুক কর্নার