
এস কে সিরাজ, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা):
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি)–এর সহকারী পরিচালক ও উপজেলা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুন্সি নুর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম–দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগ এনে তার দ্রুত অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সকাল ১০টায় সিপিপি উপজেলা কার্যালয় (জেসি কমপ্লেক্স)–এর সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে সিপিপি শ্যামনগর পৌরসভার স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ। ব্যানার–ফেস্টুন হাতে পৌরসভার সব ইউনিটের নারী–পুরুষ স্বেচ্ছাসেবক এতে অংশ নেন।
কারা অংশ নেন
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন—
সিপিপি টিম লিডার মো. আব্দুর রশিদ নান্টু
১নং ইউনিট টিম লিডার নজরুল ইসলাম মুন্না
২নং ইউনিট টিম লিডার ভবেসিন্দু মণ্ডল
৩নং ইউনিট টিম লিডার হাবিবুর রহমান
৪নং ইউনিট টিম লিডার ইয়াছিন মোড়ল
৫নং ইউনিট টিম লিডার রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল
৬নং ইউনিট টিম লিডার শাহীন ভূঁইয়া
৮নং ইউনিট টিম লিডার হেলাল মাহমুদ
৯নং ইউনিট টিম লিডার দেবাশিস গায়েন
এছাড়াও পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবকরা অংশ নেন।
স্বেচ্ছাসেবকদের অভিযোগ
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন—
কর্মকর্তা মুন্সি নুর মোহাম্মদ সিপিপিকে “বাণিজ্যিক সংগঠন” হিসেবে পরিচালনা করছেন।
নীতিমালা উপেক্ষা করে স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম নিজের ইচ্ছেমতো পরিচালনা করছেন।
স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করে সংগঠনের মনোভাব নষ্ট করছেন।
পদ্মপুকুর ইউনিয়নের নারী স্বেচ্ছাসেবক মাছুরা—কে “অযৌক্তিকভাবে” বাদ দেওয়া হয়েছে।
তার বিরোধিতা করায় শ্যামনগর সদর ইউনিটের টিম লিডার আব্দুর রশিদ নান্টুর বিরুদ্ধে বেনামী অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
প্রশিক্ষণ, মিটিং বা অফিসে সহকর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং ফোনে যোগাযোগ করলে ইচ্ছাকৃতভাবে কেটে দেন।
স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেন।
নিজের ঘনিষ্ঠদের অনিয়মের মাধ্যমে অফিসিয়াল সুবিধা এবং সুযোগ দেন।
জাতীয় পুরস্কার নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ
বক্তারা আরও জানান—
মুন্সি নুর মোহাম্মদ টাকার বিনিময়ে জাতীয় পুরস্কার পাইয়ে দেওয়ার “অফিশিয়াল সহযোগী” হিসেবে কাজ করেছেন। রমজননগর ইউনিটের স্বেচ্ছাসেবক ফারুক হোসেনকে পুরস্কারের জন্য সুপারিশ করতে গিয়ে অফিসের নথি প্রকাশ করে নজরুল নামে আরেক স্বেচ্ছাসেবকের ডকুমেন্টস জাল করে তৎকালীন ইউএনও–র কাছে পাঠানো হয়।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি
স্বেচ্ছাসেবকরা বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে উপকূলীয় দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষ দুর্যোগের সময় সিপিপির সেবা থেকে বঞ্চিত হবে। একজন কর্মকর্তার স্বেচ্ছাচারিতা পুরো ইউনিটের কার্যক্রম ব্যাহত করছে।”
তারা দ্রুত তদন্ত, অভিযোগ যাচাই এবং কর্মকর্তার অপসারণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।