
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে জ্বালানি তেল সরবরাহকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সবুজ কুমার বসাকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযানে নেমেছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) রাতে দেবীগঞ্জ থানায় উপজেলা প্রশাসনের পেশকার সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলায় ২৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
থানা সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পরপরই জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ শুরু করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট তেল পাম্পে জ্বালানি বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং এলাকায় বাড়তি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোর থেকে পেট্রোল সরবরাহের খবর ছড়িয়ে পড়লে তেল পাম্পে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ঘটনাস্থলে যান ইউএনও সবুজ কুমার বসাক।
এ সময় তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র—যেমন ফুয়েল কার্ড, মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স—না থাকা চালকদের লাইনের বাইরে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। পরে দুই চালককে কাগজপত্র না থাকায় ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।
এর পরপরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। লাইনে থাকা কয়েকজন চালক হট্টগোল শুরু করে এবং একপর্যায়ে ইউএনও ও তার সঙ্গে থাকা আনসার সদস্যদের দিকে তেড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ইউএনওকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনায় আনসার সদস্য তৈয়বুর রহমান আহত হন। তার কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে।
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক জানান, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”