
নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুন মামলার রায় দ্রুত কার্যকর এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ায় ঝুলে থাকায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত রায় কার্যকর না হলে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হবে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তারা বলেন, যেহেতু এ ঘটনায় প্রশিক্ষিত বাহিনীর সদস্যদের সম্পৃক্ততা ছিল, তাই রাষ্ট্রের উচিত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সরকার হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন প্রধানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আল আমিন, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি আবুল কালাম আজাদ জাকির, নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের পিপি খোরশেদ আলম মোল্লা এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনসহ অন্যরা।
বক্তারা আরও বলেন, অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এতে ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংস অপরাধ কমে আসবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পাবে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লা এলাকা থেকে তৎকালীন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। পরে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
২০১৬ সালের ১৬ জানুয়ারি জেলা ও দায়রা জজ আদালত এ মামলায় ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং অন্যদের সাজাও বহাল থাকে। বর্তমানে মামলাটি আপিল বিভাগের শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।