
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্যসমৃদ্ধ জেলা ঝিনাইদহে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি নতুন করে জোরালো হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যমান অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে স্বল্প সময় ও কম ব্যয়ে এখানে একটি আন্তর্জাতিক মানের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা সম্ভব।
বর্তমানে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ঝিনাইদহ ক্যাম্পাসে পরিচালিত ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদে আধুনিক ল্যাবরেটরি, প্রশস্ত ক্লাসরুম, শিক্ষার্থীদের আবাসন, গবেষণাগার, ডেইরি, পোল্ট্রি ও ছাগল খামার, ভেটেরিনারি হাসপাতাল, অডিটোরিয়াম, খেলার মাঠ ও জিমনেশিয়ামসহ প্রয়োজনীয় অধিকাংশ অবকাঠামো বিদ্যমান রয়েছে। ফলে এটিকে কেন্দ্র করেই একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বাস্তব সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঝিনাইদহসহ কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, মাগুরা ও যশোর অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এ অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন, গবেষণা এবং আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিনের।
এ প্রসঙ্গে ঝিনাইদহের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাদী উজ্জামান বলেন, “এখানে ইতোমধ্যে যে অবকাঠামো গড়ে উঠেছে, তা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে অল্প সময়েই একটি মানসম্মত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সম্ভব।”
ঝিনাইদহ কে.সি কলেজের সাবেক অধ্যাপক মহব্বত হোসেন টিপু বলেন, “এই অঞ্চলের কৃষি গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
ঝিনাইদহ-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবুবকর জানান, “এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি এটি। বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করেছি এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
অন্যদিকে, দত্তনগর কৃষি ফার্মকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রস্তাবকে অনেকেই বাস্তবসম্মত মনে করছেন না। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বীজ উৎপাদন কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করলে কৃষি উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, ঝিনাইদহ ক্যাম্পাসকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা গেলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ প্রেক্ষাপটে এলাকার সচেতন মহল ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সরকারের কাছে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।