
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক চিকিৎসক দম্পতির বিরুদ্ধে ১০ বছর বয়সী শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নির্যাতনের শিকার শিশুটির নাম আয়েশা (১০)। সে জেলার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল এলাকার রাকিব মিয়ার মেয়ে। অভিযুক্ত চিকিৎসক দম্পতি হলেন— নোমান ও কিমিয়া সাদাত তোফা। তারা শহরের উত্তর মৌড়াইল এলাকায় বসবাস করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় নয় মাস আগে আয়েশাকে ওই বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে তাকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। সম্প্রতি চিকিৎসক দম্পতি পরিবারের সদস্যদের জানান, আয়েশা বাসা থেকে চলে গেছে। এ ঘটনায় গত ২৬ এপ্রিল আয়েশার বাবা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পুলিশ ওই জিডির সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে বুধবার বিকেলে পাশের একটি বাড়ি থেকে আয়েশাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আয়েশার বাবা অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়ের ওপর দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন চালানো হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন এবং ঘটনার বিচার দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে চিকিৎসক নোমান বলেন, তার স্ত্রী গর্ভবতী থাকায় সন্তানদের দেখাশোনার জন্য আয়েশাকে রাখা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, আয়েশা বাসা থেকে কিছু স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে চলে যায়। তবে শিশুটির শরীরে আঘাতের বিষয়টি নিয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডির ভিত্তিতে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, “এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার সংশ্লিষ্টরা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।