May 1, 2026, 8:56 am
শিরোনাম :
দৌলতপুরে দরবার প্রধান হত্যা মামলার আসামি রাজীব মিস্ত্রি গ্রেপ্তার টানা বৃষ্টিতে হাওরে তলিয়ে বোরোধান, সুনামগঞ্জে কৃষকদের আহাজারি কাগজে অগ্রগতি, মাঠে ভিন্ন চিত্র: দিরাইয়ে ধান কর্তনে কৃষি অফিসের তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নওগাঁয় লাঠির আঘাতে আহত ১ মে দিবসে নারী শ্রমিকদের অধিকার ও বৈষম্য দূর করার দাবি জোরালো-জাকিয়া ডলি বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ: ভেড়ামারায় যুবকের যাবজ্জীবন, পলাতক অবস্থায় রায় গ্রীষ্মের ফল তরমুজ: পুষ্টিগুণে ভরপুর, শরীর রাখে সতেজ ১০ লিটারে ৩৫২ মিলিলিটার কম পেট্রোল: কুড়িগ্রামে ফিলিং স্টেশনকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা মহেশপুরে তিন ফসলি জমি রক্ষায় কৃষকদের মানববন্ধন ​মে দিবসে নারায়ণগঞ্জের শ্রমিকদের শুভেচ্ছা জানালেন তাঁতীদল নেতা উজ্জ্বল

টানা বৃষ্টিতে হাওরে তলিয়ে বোরোধান, সুনামগঞ্জে কৃষকদের আহাজারি

অভয়নগর প্রতিবেদক

টানা চার দিনের অতিবৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার হাওরাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। ডুবরার পানিতে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর পাকা বোরোধান, ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
উপজেলার ১২টি হাওরসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল ও কিছু উঁচু এলাকাও পানিতে প্লাবিত হয়েছে। অনেক স্থানে ধান কাটা অসম্পূর্ণ থাকায় পাকা ধান পানির নিচে ডুবে গেছে। শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো ধান ঘরে তুলতে না পারায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
কৃষকরা জানান, পানিতে ডুবে থাকা জমিতে ধান কাটতে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। হাজার টাকা দিনমজুরি দিয়েও শ্রমিক মিলছে না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই নৌকা ব্যবহার করে কোমর পানিতে নেমে ধান কাটার চেষ্টা করছেন। তবে রোদ না থাকায় কাটা ধান শুকানো ও মাড়াই করতেও সমস্যায় পড়েছেন তারা।
নলুয়া হাওরের কৃষক জিলু মিয়া বলেন, “কোমর পানিতে নেমে কেউ ধান কাটতে চায় না। বেশি টাকা দিয়েও শ্রমিক পাচ্ছি না। কাটা ধান শুকাতে পারছি না, সব নষ্ট হওয়ার উপক্রম।”
একই এলাকার কৃষক জমসেদ আলী বলেন, “১০ বিঘা জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে। চোখের সামনে কষ্টের ফসল নষ্ট হচ্ছে।”
কৃষক জাহির আলী জানান, “ধান পেকে গেছে, কিন্তু শ্রমিক নেই। হারভেস্টার মেশিনও বেশি পানিতে কাজ করে না।”
বালিশ্রী গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, “কিছু ধান কেটেছি, কিন্তু এখনও ৭ বিঘা জমির ধান পানির নিচে। এ বছর বড় ক্ষতির মুখে পড়েছি।”
কৃষকরা আরও জানান, কাটা ধান রোদ না থাকায় খলায় পচে যাচ্ছে। পাশাপাশি গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ধানের খড় সংরক্ষণ করাও সম্ভব হচ্ছে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ জানান, হাওর এলাকায় প্রায় ৬০ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। তবে নিম্নাঞ্চলের প্রায় ১০ শতাংশ ধান পানির নিচে রয়েছে। পুরো ধান কাটা শেষ হলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। তিনি সকলকে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, “প্রশাসন সার্বক্ষণিক কৃষকদের পাশে রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে এগিয়ে এসে কৃষকদের সহায়তা করতে হবে। বিশেষ করে যুবসমাজকে ধান কাটায় সহযোগিতার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”
এদিকে হাওরাঞ্চলে ফসলহানির আশঙ্কায় কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে।



ফেসবুক কর্নার