
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিশু গৃহকর্মী আয়েশা আক্তারকে নির্যাতনের অভিযোগে এক চিকিৎসক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে শহরের উত্তর মৌড়াইল এলাকা থেকে চিকিৎসক ডা. আব্দুল্লাহ আল নোমান ও তার স্ত্রী কিমিয়া সাদাত তোফাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়।
এর আগে বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আয়েশাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সে সরাইল উপজেলার পাকশিমুল গ্রামের রাকিব মিয়ার মেয়ে।
পরিবারের অভিযোগ, প্রায় ৯ মাস আগে আয়েশাকে কাজের জন্য ওই বাসায় পাঠানো হয়। তবে গত তিন মাস ধরে তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ ছিল। সম্প্রতি চিকিৎসক দম্পতি পরিবারকে জানায়, আয়েশা চুরি করে পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় ২৬ এপ্রিল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
পুলিশ জানায়, জিডির সূত্র ধরে বুধবার দুপুরে অভিযুক্তদের বাসার পাশের একটি বাড়ি থেকে আয়েশাকে উদ্ধার করা হয় এবং পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শিশুটির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে চিকিৎসক ডা. আব্দুল্লাহ আল নোমান দাবি করেন, তার স্ত্রী গর্ভবতী থাকায় সন্তানদের দেখাশোনার জন্য আয়েশাকে রাখা হয়েছিল। তিনি বিদেশে প্রশিক্ষণে থাকাকালে গত ২২ এপ্রিল আয়েশা তাদের বাসা থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।