June 5, 2026, 7:38 am
শিরোনাম :
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফের নদীতে বাস, অল্পের জন্য বেঁচে গেল চালক-হেলপার দৌলতদিয়ায় ফেরিতে উঠতে গিয়ে নদীতে পড়ে গেল বাস  ৭বছরের শিশি ধর্ষণের অভিযোগে গণপিটু ‘নিতে ধর্ষকের মৃত্যু বিশ্বজুড়ে এল নিনোর শঙ্কা, কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ? বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে খুলনায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল খাল সংস্কারে গতি, কৃষকদের স্বস্তি; কাজ পরিদর্শনে এমপি জাহাঙ্গীর আলম অনলাইন জুয়া ও বিভিন্ন মামলায় ৬ জন গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ ইসলামি ব্যাংকের গ্রাহকদের মানববন্ধন, আমানতের সুরক্ষা ও চেয়ারম্যান অপসারণের দাবি ভাঙ্গায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত দুই কিশোর, সুস্থতা কামনায় এলাকাবাসীর দোয়া বিজয়নগরে ২০ কেজি গাঁজাসহ শীর্ষ মাদক কারবারি গ্রেফতার

টানা বৃষ্টিতে স্থবির তুরা স্থলবন্দর, বিপাকে কৃষক-শ্রমিক

কে. এম. জাকির রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের রৌমারীর তুরা স্থলবন্দর টানা বৃষ্টিতে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। একসময় যেখানে প্রতিদিন পর্যটকদের ভিড়ে মুখর থাকত এলাকা, সেখানে এখন নেমে এসেছে নীরবতা। গত প্রায় ২০ দিনের অবিরাম বর্ষণে পর্যটন, শ্রম ও কৃষি—সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে পুরো স্থলবন্দর এলাকা। মহাসড়ক এখন অনেকটা ফাঁকা, আর সেই সড়কেই ভুট্টা শুকানোর চেষ্টা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। বৃষ্টির কারণে মাঠ বা বাড়ির আঙিনায় ফসল শুকানোর সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে রাস্তার ওপর ত্রিপল বিছিয়ে ফসল সংরক্ষণ করছেন তারা।
স্থানীয় কৃষক মতিয়ার রহমান বলেন, “কয়েকদিন আগে ভুট্টা তুলেছি, কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে শুকাতে পারছি না। তাই বাধ্য হয়ে রাস্তার ওপর রেখে দিচ্ছি। রোদ না উঠলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।”
অন্যদিকে, পাথর ভাঙা শ্রমিকদের কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। তুরা স্থলবন্দরের অন্যতম জীবিকা এই শ্রম খাত, যা বর্তমানে স্থবির। শ্রমিক মো. মাসুদ বলেন, “কাজ বন্ধ থাকায় আয় নেই। একদিন কাজ না করলে আমাদের সংসার চলে না। এখন খুব কষ্টে দিন কাটছে।”
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন চরম সংকটে। স্থলবন্দরের জনপ্রিয় ভাসমান ক্যাফেগুলোতে নেই কোনো পর্যটক। ‘আই লাভ ইউ’ ও ‘জলসিঁড়ি-২’ ক্যাফে কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে খদ্দের না থাকায় তারা লোকসানের মুখে পড়েছেন। কর্মচারীরাও অলস সময় পার করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈরি আবহাওয়ার কারণেই পর্যটক ও সাধারণ মানুষের আনাগোনা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। পুরো এলাকায় এখন কেবল বৃষ্টির শব্দ আর নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের আশা, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে তুরা স্থলবন্দর। তবে দীর্ঘমেয়াদি এ পরিস্থিতি কৃষক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের জীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।



ফেসবুক কর্নার