
দীর্ঘ কয়েক মাসের কূটনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান শীতলতা দূর করার প্রাথমিক ও প্রধান পদক্ষেপ হিসেবে পুনরায় পুরোদমে ভিসা সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা উন্মুক্ত করেছে এবং ভারতও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাদের পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং পরবর্তী সময়ে তৈরি হওয়া টানাপোড়েনের প্রভাবে দুই দেশের মানুষের যাতায়াত ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালে যেখানে প্রায় ২১ লাখ বাংলাদেশি ভারত সফর করেছিলেন, ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে মাত্র ৪ লাখ ৭০ হাজারে নেমে আসে। তবে বর্তমানে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা কনস্যুলার বিভাগগুলো পূর্ণোদ্যমে কাজ শুরু করেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাম্প্রতিক দিল্লি সফর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ সম্পর্কের এই পুনরুজ্জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
বর্তমানে ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম ১৫-২০ শতাংশ সক্ষমতায় চললেও নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব গ্রহণের পর তা দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে চিকিৎসা ও পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনে ভিসা প্রাপ্তিতে যে দীর্ঘসূত্রতা ছিল, তা কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত দুই মাসে প্রায় ১৩ হাজার ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশের ভিসা প্রদান করা হয়েছে, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক ও পর্যটন খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে,
“ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হওয়ার পর ঢাকা ও দিল্লি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগের দিকে মনোযোগ দেবে।” – সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্র।
সাম্প্রতিক পশ্চিম এশীয় সংকটের কারণে উদ্ভূত জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় ভারত বাংলাদেশকে ডিজেল সরবরাহ করে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সহযোগিতার মনোভাবই মূলত ভিসা জটিলতা নিরসন এবং দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পথ প্রশস্ত করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ভিসা সহজিকরণ হলে বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে পুনরায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।