
নাটোরের সিংড়া উপজেলায় আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি ও টানা বৃষ্টির কারণে চলনবিলের কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বোরো ধান ঘরে তোলার সময় অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে হাজারো কৃষক ফসলহানির আশঙ্কায় দিন পার করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণে চলনবিলের অনেক জমির ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নষ্ট হতে শুরু করেছে। এর মধ্যে আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৮ দশমিক ৮২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে। নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট ও ব্রিজের নিচ দিয়ে বিলের ভেতরে পানি প্রবেশ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে সারদানগর ভাঙন এলাকা, কতুয়াবাড়ি, আনন্দনগর ও সিংড়া দহপাড় খালসহ অন্তত পাঁচটি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট দিয়ে বিলের ভেতরে পানি ঢুকছে। এতে নিচু জমির আধাপাকা ধান দ্রুত কাটতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা।
ফসল রক্ষায় স্থানীয় কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করছেন এবং রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। একমাত্র ফসল বাঁচাতে এলাকাবাসী সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
শনিবার আত্রাই নদীর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম। এ সময় তিনি কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত জানান, “অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হচ্ছে এবং কৃষকদের সঙ্গে সমন্বয় করে বাঁধ নির্মাণ ও পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
এদিকে কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত পানি নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে চলনবিলের বিপুল পরিমাণ বোরো ধান নষ্ট হয়ে যেতে পারে।