May 5, 2026, 1:54 pm
শিরোনাম :
বিভ্রান্তিকর সংবাদের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা, জ্বালানি সংকটে বালিয়াডাঙ্গীর মানুষ সিসিএস লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটি গঠন, সভাপতি সহেল ও সম্পাদক ফিরোজ অকাল বন্যায় হাকালুকি হাওরে বোরো ধান বিপর্যয়, কৃষকের দিশেহারা দিন হবিগঞ্জ পুলিশের সম্মেলনে পুরস্কৃত বিজয়নগরের সন্তান লোকমান হোসেন ধামরাইয়ে নিসচার উপদেষ্টা হলেন ওসি নাজমুল হুদা খান, সড়ক নিরাপত্তায় নতুন প্রত্যাশা নেত্রকোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর-খাল পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ঠাকুরগাঁও লিগ্যাল এইডে বছরে ৭১৪ আবেদন নিষ্পত্তি যান্ত্রিকতার চাপে কুড়িগ্রামে হারিয়ে যাচ্ছে পাথরের জাঁতা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৫০ শয্যার আধুনিক আইসিইউ উদ্বোধন পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে শুভেন্দু অধিকারীর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা

অকাল বন্যায় হাকালুকি হাওরে বোরো ধান বিপর্যয়, কৃষকের দিশেহারা দিন

তরিকুর রহমান কুলাউড়া মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকির তীরবর্তী অঞ্চলে অকাল বন্যা, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বোরো ধান চাষ। প্রকৃতির বিরূপ আচরণে কৃষকদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে, আর আধাপাকা ধান রক্ষায় কোমর পানিতে নেমে প্রাণপণ লড়াই করছেন তারা।
মঙ্গলবার (৫ মে) সরেজমিনে হাকালুকি হাওরের দক্ষিণ তীরের ভূকশিমইল, জয়চন্ডী, কাদিপুর, বরমচাল, ভাটেরা ও ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যেখানে এই সময় ধান কাটার উৎসব থাকার কথা, সেখানে বিরাজ করছে হতাশা আর দীর্ঘশ্বাস। কৃষকরা নৌকা ও কাদাময় পথ পেরিয়ে পানির নিচ থেকে ধান কেটে এনে রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখছেন। তবে টানা বৃষ্টির কারণে ধান শুকাতে না পারায় পচন ধরছে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে অঙ্কুরোদগমও শুরু হয়েছে।
কৃষকরা জানান, একদিকে জ্বালানি সংকটে হারভেস্টার ব্যবহার করতে না পারা, অন্যদিকে তীব্র শ্রমিক সংকটে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বর্তমানে এক বিঘা জমির ধান কেটে বাড়িতে তুলতে খরচ হচ্ছে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা, যেখানে বাজারে ধানের মণ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকায়। অথচ একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি এক হাজার টাকারও বেশি হওয়ায় অনেক কৃষক ধান কাটার আশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কুলাউড়ায় মোট ৮ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে হাওর এলাকায় ৪ হাজার ৮০৫ হেক্টর। ইতোমধ্যে অতিবৃষ্টি ও ঢলে ৩৮০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা প্রায় ৩ হাজার কৃষকের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, “বৈরী আবহাওয়ার কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে হাওর এলাকায় প্রায় ৮০ শতাংশ এবং গ্রামাঞ্চলে ৬৫ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। কৃষকদের সহায়তায় সরকার ১৪৪০ টাকা মণ দরে ধান সংগ্রহ শুরু করেছে, যেখানে একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৩ টন ধান বিক্রি করতে পারবেন।”
তবে সরকারি উদ্যোগ থাকলেও উৎপাদন খরচ ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। হাকালুকি হাওরপাড়ের হাজারো কৃষক এখন লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।



ফেসবুক কর্নার