May 10, 2026, 7:40 pm
শিরোনাম :
মান্দায় বিশেষ অভিযানে ৩০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার, আটক ২ বরিশালে আবাসিক হোটেলে রহস্যজনক মৃত্যু: যৌনউত্তেজক সিরাপেই প্রাণ গেল দুই সন্তানের জনকের! কালীগঞ্জে ইউপি অফিসে স্বামী-স্ত্রীর আধিপত্যের অভিযোগ, ক্ষোভ সেবাগ্রহীতাদের ঝুঁকিপূর্ণ ফানাই সেতুতে ভোগান্তি, আতঙ্কে ১৫ হাজার মানুষ রৌমারীতে চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ; অবরুদ্ধ পঞ্চু মিয়ার পরিবার কুড়িগ্রামে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন ত্রাণমন্ত্রী দুলু পরিবর্তনের প্রত্যয়ে এগিয়ে তরুণ সমাজসেবক রাহাত হাসান জুয়েল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বেকু-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ১, ঢাকায় পাঠানো হলো ৪ আহতকে নেত্রকোনায় স্কুলছাত্রীর মৃত্যু, তদন্তে প্রেমঘটিত মানসিক চাপে ইঙ্গিত কসবা সীমান্তে চোরাচালান সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, দুই সহযোগী আটক

কালীগঞ্জে ইউপি অফিসে স্বামী-স্ত্রীর আধিপত্যের অভিযোগ, ক্ষোভ সেবাগ্রহীতাদের

হাফিজুর রহমান কালীগঞ্জ সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার ও তার স্বামী মামুনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দাপ্তরিক কাজে বহিরাগত হস্তক্ষেপ এবং ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। একই সঙ্গে প্রশাসনের নীরব ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
রোববার (১০ মে) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার তার স্বামী মামুনকে পাশে বসিয়ে অফিসের বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরিজীবী না হওয়া সত্ত্বেও মামুন নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে অংশ নিচ্ছেন এবং সেবা প্রার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় সাত বছর ধরে এভাবে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালিত হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। ইউনিয়ন পরিষদ আইন ২০০৯ অনুযায়ী বহিরাগত কাউকে দাপ্তরিক কাজে সম্পৃক্ত করার সুযোগ না থাকলেও বাস্তবে তার ব্যত্যয় ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদে নিয়োজিত উদ্যোক্তাদের কাজ থেকে দূরে সরিয়ে রেখে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও তার স্বামী বিভিন্ন অনলাইন সেবা, জন্ম নিবন্ধন সংশোধন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের কাজ নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করছেন। অভিযোগ রয়েছে, জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। বয়স সংশোধনসহ বিভিন্ন সেবার জন্য কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগও করেন ভুক্তভোগীরা।
ইউনিয়ন পরিষদের এক উদ্যোক্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমরা অফিসে থাকলেও কাজ করতে দেওয়া হয় না। প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও তার স্বামীর কারণে স্বাভাবিক পরিবেশ নেই।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার বলেন, “আগের চেয়ারম্যানের সময় থেকেই আমার স্বামী আমাকে সহযোগিতা করে আসছে। বিষয়টি নিয়ে আগে কেউ আপত্তি করেনি।”
এ বিষয়ে মথুরেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম বলেন, “বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের পক্ষ থেকে তার বদলির আবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ইউনিয়ন পরিষদে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।



ফেসবুক কর্নার