June 26, 2026, 10:45 am
শিরোনাম :
স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান, ধামরাইয়ে বিদ্যুতের টাওয়ারে যুবক; ৩ ঘণ্টার অভিযানে উদ্ধার বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করল ভারত নিজের বায়োপিকে অভিনয় করতে চান পপি ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে ১৬৪ জনের মরদেহ উদ্ধার গুপ্তধনের লোভে সর্বস্বান্ত পরিবার, ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ মান্দায় অটোরিকশা মালিক সমিতির নেতাকে মারধরের অভিযোগ, প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ কুষ্টিয়ায় অস্ত্র ও গুলিসহ যুবক আটক, গণপিটুনির পর পুলিশের হাতে সোপর্দ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিশুমৃত্যুর অভিযোগ: ভুল ইনজেকশন নিয়ে তোলপাড়, তদন্তের দাবি লক্ষ্মীপুরে মা ও দুই মেয়েকে হত্যা, আরেক কন্যা আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাদক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব

প্রবাসীর টাকায় প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ, সাবেক স্ত্রীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে ডিবির চার্জশিট

সুরুজ বাঙালি রিপোর্টার ঝিনাইদা

  1. চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় গ্রিস প্রবাসী রেজাউল হকের উপার্জিত অর্থ আত্মসাৎ, পারিবারিক প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে তার সাবেক স্ত্রী মমতাজ পারভীন, স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতা ও তাদের সহযোগীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
    মামলা ও তদন্ত সূত্রে জানা যায়, আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নের কেদারনগর এলাকার বাসিন্দা রেজাউল হক দীর্ঘদিন ধরে গ্রিসে কর্মরত। প্রবাসে থাকা অবস্থায় তিনি পরিবারের জন্য কয়েক দফায় বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে পাঠান। অভিযোগ রয়েছে, তার স্ত্রী মমতাজ পারভীন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি কামাল হোসেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।
    পরিবারের দাবি, স্বামীর অজান্তে আলমডাঙ্গা পৌর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন তারা। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে রেজাউলের মা তাদের অনুসরণ করে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বলে অভিযোগ ওঠে। পরে এ নিয়ে পরিবারে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।
    ঘটনার পর দেশে ফিরে এসে রেজাউল হক আদালতে মামলা দায়ের করেন এবং স্ত্রীকে তালাক দেন। পরবর্তীতে মমতাজ পারভীন কামাল হোসেনকে বিয়ে করেন বলে জানা গেছে।
    তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, রেজাউলের মাকে কৌশলে একটি সাদা স্ট্যাম্পে টিপসই নেওয়ার পর সেটিকে ব্যবহার করে জাল চুক্তিনামা তৈরি করা হয়। ওই নথির মাধ্যমে অর্থ ও সম্পদ দাবি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠে এসেছে।
    দীর্ঘ তদন্ত শেষে দণ্ডবিধির প্রতারণা, জালিয়াতি, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ একাধিক ধারায় অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় চুয়াডাঙ্গা জেলা গোয়েন্দা শাখা আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
    ভুক্তভোগী রেজাউল হক বলেন, “দীর্ঘ ১৮ বছর প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারকে ভালো রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন আমি নিজ বাড়িতেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
    অন্যদিকে অভিযুক্ত মমতাজ পারভীন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। একইভাবে কামাল হোসেনও অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
    ডিবির চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন— মমতাজ পারভীন, আলম হোসেন, একরামুল হক, আজিজ আহম্মেদ জীবন, রহিদুল ইসলাম, হেলেনা খাতুন ও তারাচাঁদ মিয়া।
    এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।



ফেসবুক কর্নার