June 24, 2026, 3:01 am
শিরোনাম :
হ্যাটট্রিকের আশায় রোনালদো, বড় লিড নিয়ে বিরতিতে পর্তুগাল আ. লীগের পরিকল্পনা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নস্যাৎ করে দিয়েছে : ডিএমপি কমিশনার একযোগে ১৬ আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জমা দিলেন পদত্যাগপত্র নোয়াখালীতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন: ৫ লাখ ৭৬ হাজার শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর প্রস্তুতি মৃত্যুই আমাদের সবার শেষ গন্তব্য: পিয়া জান্নাতুল জুয়া প্রতিরোধে সংসদে বিল, সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছরের কারাদণ্ড জলবায়ু অর্থায়ন ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরও সহজলভ্য করার আহ্বান জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয় পঞ্চগড়ে মাতৃত্বকালীন ভাতায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ যোগ্যরা বঞ্চিত, সুবিধা পাচ্ছেন অযোগ্যরা; তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের অপপ্রচার ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মানিকগঞ্জজুড়ে বিএনপির বিক্ষোভ

মুখে টিউমার নিয়েও স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছে রাবেয়া

আরিফ হাসান রামপাল বাগেরহাট

জন্মের পর থেকেই কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে বড় হচ্ছে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার পাগলা শ্যামনগর গ্রামের কিশোরী রাবেয়া খাতুন। মুখের ডান পাশে বড় টিউমার এবং একটি চোখে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েও থেমে নেই তার স্বপ্ন। চরম দারিদ্র্য ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে অদম্য এই শিক্ষার্থী।
রাবেয়া বর্তমানে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অন্যসব শিক্ষার্থীর মতোই তারও স্বপ্ন—পড়াশোনা করে নিজের পরিচয় গড়ে তোলা এবং পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো। কিন্তু সেই পথ আজ কষ্ট, বেদনা ও অনিশ্চয়তায় ভরা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, জন্মের পর থেকেই রাবেয়ার মুখের ডান পাশে টিউমার দেখা দেয়। সময়ের সঙ্গে টিউমারটি বড় হতে থাকে এবং বর্তমানে তার একটি চোখ সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। শারীরিক নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও কখনও পড়াশোনা থেকে পিছিয়ে যায়নি সে।
প্রতিদিন শারীরিক যন্ত্রণা নিয়েই বই-খাতা হাতে স্কুলে যায় রাবেয়া। অভাবের সংসারে মায়ের গৃহস্থালির কাজে সহযোগিতা করার পাশাপাশি বাবার কাজেও সহায়তা করে। তারপরও নিজের স্বপ্ন আঁকড়ে ধরে সামনে এগিয়ে চলেছে।
স্থানীয়রা জানান, রাবেয়ার মানসিক দৃঢ়তা ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। তারা তার চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
রাবেয়া খাতুন বলে, “আমি পড়াশোনা করে মানুষের মতো বাঁচতে চাই। অনেক কষ্ট হয়, তারপরও হাল ছাড়িনি। যদি কেউ সাহায্য করতেন, তাহলে হয়তো চিকিৎসা করাতে পারতাম।”
রাবেয়ার মা রোজিনা বেগম বলেন, “জন্মের পর থেকেই মেয়েটা কষ্ট নিয়ে বড় হচ্ছে। মুখের টিউমারের কারণে ঠিকমতো চলাফেরা করতেও সমস্যা হয়। তারপরও সে লেখাপড়া ছাড়তে চায় না। কিন্তু আমাদের সামর্থ্য না থাকায় চিকিৎসা করাতে পারছি না।”
পিতা মালেক মাতব্বর বলেন, “আমি দিনমজুর মানুষ। এত টাকা জোগাড় করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব। সমাজের দয়ালু মানুষ এগিয়ে এলে মেয়েটার চিকিৎসা করানো সম্ভব হতে পারে।”
পরিবারের দাবি, রাবেয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এতে প্রায় ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে, যা দরিদ্র এই পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।
স্থানীয়দের মতে, সমাজের মানবিক ও বিত্তবান মানুষের সামান্য সহযোগিতাই বদলে দিতে পারে রাবেয়ার জীবন। ফিরে আসতে পারে তার স্বাভাবিক জীবন ও নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন।



ফেসবুক কর্নার