June 23, 2026, 2:23 pm
শিরোনাম :
পঞ্চগড়ে মাতৃত্বকালীন ভাতায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ যোগ্যরা বঞ্চিত, সুবিধা পাচ্ছেন অযোগ্যরা; তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের অপপ্রচার ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মানিকগঞ্জজুড়ে বিএনপির বিক্ষোভ অতীতের দর্পণে গ্রামবাংলা: হারিয়ে যাওয়া সোনালি স্মৃতির ব্যবচ্ছেদ চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিতে আরটিজি ক্রেনে আগুন, ক্ষতিগ্রস্ত ৪ কনটেইনার কুড়িগ্রামে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: দেশীয় অস্ত্রসহ ইউপি সদস্য গণধোলাইয়ের পর পুলিশে সোপর্দ ধানমন্ডিতে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে সাংবাদিকের উপর হামলা শাহজালালের মাজারের দানবাক্সে ৪ দিনে মিলল ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা নিষিদ্ধ সংগঠনের অপতৎপরতার প্রতিবাদে কুষ্টিয়ায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫ গোল মেসির, সমান ৪ গোল করে ২য়-৩য় অবস্থানে এমবাপ্পে-হালান্ড মেসির জোড়া গোলে নকআউটে আর্জেন্টিনা

আল্লাহর দরবারে কোরবানির গোশত ও রক্ত কিছুই পৌঁছায় না, পৌঁছায় শুধু তোমাদের তাকওয়া’

কাকলি প্রধান

পৃথিবী বহু দেশে আজ পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। তবে, বাংলাদেশে ঈদ আগামীকাল। মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহীম (আ.) ও তার পুত্র ইসমাইল (আ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত সেই কাহিনী সকল মুসলিম উম্মতের জন্য শিক্ষণীয়। মহান আল্লাহ তায়লা হযরত ইব্রাহীম (আ.)-কে ৮৬ বছর বয়সে দ্বিতীয়া স্ত্রী হাজেরার গর্ভে দান করেন তার প্রথম সন্তান ইসমাঈল (আ.)।
তবে, এই পুত্র দান করার পর ইব্রাহীম (আ.)-কে এক কঠিন পরীক্ষায় ফেলে দেন মহান আল্লাহ তায়লা। স্বপ্নে দেখান তার সবচেয়ে প্রিয় বস্তুটি কোরবানি করতে। একজন বাবার কাছে বৃদ্ধ বয়সে তার একমাত্র সন্তানই সবচেয়ে বেশি প্রিয় ও মূল্যবান। সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিয়ে ছেলেকে সাজিয়ে গুছিয়ে নিয়ে যান কোরবানি করতে। পুত্র ইসমাইল (আ.)-ও ছিলেন একজন আদর্শ সন্তান। বাবার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়ে এতোটুকু দ্বিধা করেননি তিনি। অবশেষে, কোরবানির মুহূর্তে ইসমাইল (আ.)-এর জায়গায় মহান আল্লাহ পাঠিয়ে দিয়েন একটি দুম্বা। সুরা সাফফাতের ১০৩ ও ১০৭ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন,

‘অবশেষে যখন পিতা-পুত্র উভয়ে আল্লাহর কাছে নিজেদেরকে সোপর্দ করল এবং ইব্রাহিম তার পুত্রকে উপুড় করে শুইয়ে দিলেন জবেহ করার জন্য। আমি তাকে (ইসমাইল) মুক্ত করলাম এক কোরবানির বিনিময়ে।’
পিতা-পুত্রের এ আত্মত্যাগ আল্লাহর দরবারে এতটাই গ্রহণযোগ্য হয়েছিল যে, আল্লাহতায়ালা পরবর্তী সব উম্মতের মধ্যে তা স্মরণীয়-বরণীয় করে রাখলেন। কুরআনে বলা হয়েছে, ‘আর আমরা ভবিষ্যতের উম্মতের মধ্যে ইব্রাহিমের (আ.) এই সুন্নাতকে স্মরণীয় করে রাখলাম। (সুরা সাফ্ফাত, আয়াত-১০৮)।

কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পশু জবাইয়ের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে, মনের পশুত্বকে জবাই করা। মহিমান্বিত এই ইবাদতটি আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হওয়ার অন্যতম শর্তই হচ্ছে তাকওয়া বা একনিষ্ঠতা।
যার বর্ণনা পবিত্র কালামে এসেছে এভাবে, ‘আপনি তাদেরকে আদমের দুই পুত্রের ঘটনাটি ঠিকভাবে শুনিয়ে দিন তা হচ্ছে এই যে, যখন তারা দুজনে কোরবানি পেশ করল তখন তাদের একজনের কোরবানি কবুল হলো, অন্যজনের কোরবানি কবুল হল না। তখন সে তার ভাইকে বলল, অবশ্যই আমি তোমাকে হত্যা করব। সে উত্তরে বললো, আল্লাহ তো মুত্তাকিনদের কোরবানিই কবুল করেন (সূরা মায়িদা, আয়াত-২৭ ও ২৮)।’
কোরবানি গ্রহণ হওয়ার মূল উপাদান তাকওয়া বা খোদাভিরুতা। কুরআনে এরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহর দরবারে কোরবানির গোশত ও রক্ত কোনো কিছুই পৌঁছায় না, পৌঁছায় শুধু তোমাদের তাকওয়া’ (সূরা হজ, আয়াত-৩৭)।
আল্লাহ আমাদের কোরবানি বিষয়ক কাজগুলো একনিষ্ঠভাবে সম্পূর্ণ করার তৌফিক দান করুন। আমিন



ফেসবুক কর্নার