
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের কুলবেড়ে গ্রামের ‘গেঁড়া মাথা’ মাঠে আবাদি জমি কেটে অবৈধভাবে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একের পর এক উর্বর কৃষিজমি মৎস্য প্রজেক্টে রূপান্তরিত হওয়ায় কৃষি উৎপাদন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের প্রায় ৯০ শতক জমিতে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে পুকুর খননের কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অনুমোদন ছাড়াই এই কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।
এলাকার কয়েকজন কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কয়েক বছর আগেও মাঠজুড়ে ধান ও অন্যান্য ফসলের আবাদ হতো। কিন্তু ক্রমেই কৃষিজমি কমে গিয়ে পুকুরে পরিণত হচ্ছে। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত বাদল অধিকারী স্বীকার করেন যে, পুকুর খননের জন্য তার কাছে কোনো সরকারি অনুমোদন বা কাগজপত্র নেই। তিনি দাবি করেন, ভেকু মেশিনের মালিক তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে এ ধরনের কাজে আলাদা অনুমতির প্রয়োজন নেই।
অন্যদিকে ভেকু মেশিনের মালিক সিরাজুল ইসলাম বলেন, তিনি কেবল মাটি কাটার কাজ করছেন। জমির মালিকের অনুরোধে কাজটি করছেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, অনুমতি ছাড়া কৃষিজমিতে পুকুর খনন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
কৃষি ও পরিবেশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, অপরিকল্পিতভাবে কৃষিজমি কেটে পুকুর খনন করলে মাটির স্বাভাবিক গঠন ও উর্বরতা নষ্ট হয়। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির ভারসাম্য এবং স্থানীয় পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ে। তারা কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।