
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহেরমাদী টোলপাড়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি সরকারি ক্যানাল থেকে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র রাতের আঁধারে স্কেভেটর মেশিন ব্যবহার করে ক্যানালের মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটা ও স্থানে সরবরাহ করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের নিচে অবস্থিত ক্যানালের পাড় কেটে ট্রলি চলাচলের জন্য রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। ক্যানালের শুকনো অংশ থেকে ব্যাপকভাবে মাটি অপসারণের ফলে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থলে একটি স্কেভেটর মেশিনও দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল সরকারি ক্যানাল ও খাসজমির মাটি কেটে বিক্রি করে আসছে। তাদের দাবি, উপজেলার সিরাজনগর টোলপাড়া এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি কয়েক রাতেই বিপুল পরিমাণ মাটি বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী বলেন, প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারির অভাবে সরকারি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে মাটি অপসারণ অব্যাহত থাকলে ক্যানালের কার্যকারিতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্তদের একজন প্রথমে দাবি করেন, নিজস্ব জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। তবে রাতের বেলায় মাটি কাটার কারণ এবং জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি।
ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হক বলেন, সরকারি ক্যানালের মাটি কাটার বিষয়ে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হবে বলে তিনি জানান।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, “অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারি ক্যানাল, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত অভিযান পরিচালনা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।