June 25, 2026, 12:21 pm
শিরোনাম :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিশুমৃত্যুর অভিযোগ: ভুল ইনজেকশন নিয়ে তোলপাড়, তদন্তের দাবি লক্ষ্মীপুরে মা ও দুই মেয়েকে হত্যা, আরেক কন্যা আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাদক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব চীনের সঙ্গে আরো গভীর শিল্প অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, নিহতের সংখ্যা ছাড়াতে পারে ১ লাখ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ এমনভাবে দৌড়াও, যেন আজই তোমার জীবনের শেষ দিন’—নেইমারকে বাবার বার্তা সাংবাদিককে মারধর, জামায়াতের ৪ কর্মী বহিষ্কার সংগীত জীবনের ৩৩ বছর পূর্তিতে সুইডেনে বালাম বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার, লাল গালিচা সংবর্ধনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিশুমৃত্যুর অভিযোগ: ভুল ইনজেকশন নিয়ে তোলপাড়, তদন্তের দাবি

অভয়নগর প্রতিবেদক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পাইকপাড়া এলাকায় অবস্থিত দি মেঘনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, কর্তব্যরত নার্সের দেওয়া ভুল ইনজেকশনের কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের কথা জানিয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু আনাস (৬ মাস) হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, হামের উপসর্গ নিয়ে দুই দিন আগে চিকিৎসকের পরামর্শে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল বলেও দাবি করেন স্বজনরা। বুধবার রাতেও শিশুটি স্বাভাবিক ছিল এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খেলাধুলা করেছিল।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, রাত সাড়ে ৯টার দিকে দায়িত্বরত এক নার্স চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ইনজেকশন দিতে এসে অন্য একটি ওষুধ মিশিয়ে শিশুটির শরীরে প্রয়োগ করেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে সে মারা যায়।
শিশুটির বাবা গিয়াস উদ্দিন বলেন, “আমার সন্তান চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুস্থ হয়ে উঠছিল। ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই তার অবস্থার অবনতি হয়। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি চাই।”
মা সোমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “ইনজেকশন দেওয়ার পর বাচ্চার অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে আমরা দ্রুত চিকিৎসকের সহায়তা চেয়েছিলাম। কিন্তু সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
ঘটনার পর হাসপাতালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী হাসপাতাল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।
এ বিষয়ে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. বাছির মিয়া বলেন, “শিশুটির মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট নার্সের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।”
খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. নাসির জানান, পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. নোমান মিয়া বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে শিশুটির আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।



ফেসবুক কর্নার