
মোঃ মাসুম বিল্লাল, স্টাফ রিপোর্টার
দেশব্যাপী শিক্ষাখাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চলমান রাষ্ট্রীয় সরকার নতুন নীতিমালা ও নির্দেশনা জারি করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হচ্ছে। সর্বশেষ যশোরের মণিরামপুর উপজেলার গোপালপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মোঃ রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে।
নিয়োগ বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি ও দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ১৯৯২ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদানকারী রেজাউল করিম ২০০৮ সালে প্রধান শিক্ষক পদে দায়িত্ব নেন। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তিনি দ্রুত প্রতিষ্ঠানের প্রভাবশালী ব্যক্তিতে পরিণত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০১২ সালে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর থেকে শিক্ষক নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে আলোচিত নিয়োগগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্রীড়া শিক্ষক মোঃ আসাদুজ্জামান, যিনি ক্রীড়া বিষয়ে দক্ষ না হওয়া সত্ত্বেও নিয়োগ পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের আন্তঃস্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতার জার্সিতে বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহারের বিতর্কেও তিনি সমালোচিত হন।
দুই মাসের অনুমোদিত ছুটি নিয়ে ৫ মাস অনুপস্থিত
চলতি বছরের জুলাই মাসে রেজাউল করিম আট মাসের স্বেচ্ছা ছুটির আবেদন করেন। এডহক সভাপতি তাকে মাত্র দুই মাসের ছুটি অনুমোদন করেন এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পান পলাশ ঘোষ। তবে, সেপ্টেম্বরে ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও রেজাউল করিম এখনো দায়িত্বে ফেরেননি।
উপজেলা প্রশাসনের এক সাবেক কর্মকর্তা জানান, রেজাউল করিম গোপনে অতিরিক্ত ছুটির জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রতিষ্ঠানের নতুন সভাপতির কাছে আবেদন করেছিলেন, কিন্তু স্থানীয় মহলে বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়ায় আবেদন নাকচ হয়।
অবৈধ অনুপস্থিতি আড়াল করতে চেষ্টা?
স্থানীয় সূত্র মতে, অধ্যক্ষ রেজাউল করিমের পক্ষে প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক একটি শিক্ষক সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যারা তাকে ‘অনুপস্থিত অবস্থায় বহাল তবিয়তে’ রাখতে বিভিন্ন মহলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
এ ছাড়া নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন ভুক্তভোগী নিয়মিতই তার গ্রামের আলিশান বাড়িতে গিয়ে বকেয়া সমাধানের চেষ্টা করে থাকেন।
প্রশাসনের অবস্থান
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর ছুটির আবেদন সংক্রান্ত স্বাক্ষরযুক্ত একটি কপি প্রশাসনের হাতে পৌঁছেছে।
মণিরামপুরের নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেন বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানে ক্ষোভ ও সমালোচনা
ছুটি শেষে দায়িত্বে না ফেরা, অতিরিক্ত ছুটির আবেদন নাকচ হওয়া এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ পাওয়ায় গোপালপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় অভিভাবক মহলে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।