
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি লিওনেল মেসিকে কার্যত ম্যাচের বাইরে রেখেই শিরোপা জিতেছে স্পেন। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে নিজের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে দেয়নি ইউরোপের দলটি। বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে এবং মেসিকে বারবার রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠে ফিরতে বাধ্য করে স্পেন তাদের পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন করে।
নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ৯০ মিনিটে মেসি মাত্র ৫৪ বার বল স্পর্শ করেন। আরও বিস্ময়কর তথ্য, পুরো ম্যাচে একবারও বল নিয়ে স্পেনের পেনাল্টি বক্সে ঢুকতে পারেননি তিনি। আর্জেন্টিনার আক্রমণের মূল ভরসাকে এতটা নিষ্ক্রিয় করে রাখাই শেষ পর্যন্ত স্পেনের ১-০ গোলের জয়ের অন্যতম বড় ভিত্তি হয়ে ওঠে।
স্পেনের এই কৌশলের প্রশংসা করেছেন সাবেক ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার মাইকা রিচার্ডস। বিবিসিকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, সবাই জানতে চেয়েছিল মেসিকে কীভাবে থামানো সম্ভব। তার মতে, এর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বল নিজেদের দখলে রাখা এবং মেসিকে উল্টো দিকে দৌড়াতে বাধ্য করা। স্পেন পুরো ম্যাচে ঠিক সেটিই করেছে।
ফাইনালে মেসিকে বেশ কয়েকবার মাঝমাঠে নেমে এসে বল সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। সাধারণত প্রতিপক্ষের রক্ষণে যেভাবে প্রভাব বিস্তার করেন, সেই সুযোগ তিনি পাননি। স্পেনের নিয়ন্ত্রিত পাসিং ফুটবলের কারণে আর্জেন্টিনাও দীর্ঘ সময় বলের দখল রাখতে পারেনি। ফলে আক্রমণ গড়ে তোলার মতো পরিস্থিতিও খুব কমই তৈরি হয়েছিল।
তবে একটি ম্যাচের পারফরম্যান্স দিয়ে মেসির পুরো বিশ্বকাপ বিচার করতে নারাজ রিচার্ডস। তার মতে, পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ছিলেন সেরা ফুটবলারদের একজন, এমনকি অনেকের চোখে তিনিই ছিলেন সেরা। রিচার্ডস বলেন, বল ছাড়া মেসির কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও মাঠে সতীর্থদের অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতা অসাধারণ। তার ভাষায়, ফুটবল বিশ্ব এখনো একজন অসাধারণ খেলোয়াড়ের মহত্ত্বের সাক্ষী হচ্ছে।
এই জয়ের মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তোলে স্পেন। ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারানোর পেছনে বলের দখলে আধিপত্য বজায় রাখা এবং মেসিকে কার্যকরভাবে নিষ্ক্রিয় করে রাখার কৌশলই সবচেয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। সূত্র: চ্যানেল টুয়েন্টি ফোর।