
জুলাইসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ভূমিকার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর বিএমএ ভবনের মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জুলাইয়ের রক্তাক্ত জুব্বা: মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবদান’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ দাবি জানান।
আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের কথা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনের একটি সংকটময় সময়ে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নতুন গতি এনে দেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষের অধিকার আদায়ে অতীতেও ওলামায়ে কেরাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবদান রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি ও সম্মান দেওয়া উচিত।
বক্তব্যে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন। তার দাবি, জুলাই আন্দোলনের আদর্শ ও লক্ষ্য নিয়ে কথা বলাকে ‘জুলাই নিয়ে ব্যবসা’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন রাষ্ট্র, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং নতুন বাংলাদেশ গঠন।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের ফলে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক সুবিধা বিএনপি পেয়েছে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি সংবিধান সংস্কার-সংক্রান্ত আদেশকে অবৈধ বলা হয়, তাহলে সেই আদেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে সরকার কী অবস্থান নেবে।
অবিলম্বে সংস্কার বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা শুধু সংবিধানের প্রচলিত কাঠামো দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। তার মতে, জুলাই আন্দোলনের জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সংস্কার কার্যকর করাই সময়ের দাবি।
তিনি আরও বলেন, সরকার যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ না নেয়, তাহলে ওলামায়ে কেরামসহ জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংসদীয় আলোচনার মাধ্যমেই এ সংকটের সমাধান সম্ভব হবে