July 27, 2026, 10:24 pm

এনসিপির ‘জুলাই জাগরণ’ সমাবেশে বিএনপি সরকারের সমালোচনা

সুরুজ বাঙালি স্টাফ রিপোর্টার ঝিনাইদাহ
Oplus_131072

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঝিনাইদহ জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক পদযাত্রা ও সমাবেশে বিএনপি সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন দলের নেতা এমপি আখতার হোসেন।
রোববার আয়োজিত সমাবেশে তিনি বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশের মানুষ যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে সেই প্রত্যাশা ব্যাহত হচ্ছে।” তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় বৈষম্য, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ক্ষমতার অপব্যবহার নতুন বাংলাদেশ গঠনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আখতার হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ কোনো একক দলের নয়; এটি হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলিমসহ সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের দেশ। জনগণ কোনো ধরনের বৈষম্য মেনে নেবে না। বিএনপিকেও এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত হবে না, যাতে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথ বাধাগ্রস্ত হয়।”
তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেই একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে তার জবাব জনগণই দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা। এতে বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার এবং জাতীয় নারী শক্তির সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সরোয়ার তুষার বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের বিচার দেশের আদালতেই মোকাবিলা করুন। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সহিংসতার ঘটনায় শেখ হাসিনার বিচার দাবি করে আইনি প্রক্রিয়ায় দায় নির্ধারণের আহ্বান জানান।
সমাবেশে জুলাই আন্দোলনের শহীদ ইঞ্জিনিয়ার রাকিবুল ইসলামের বাবা আবু বকর সিদ্দিক, মা হাফিজা খাতুন, শহীদ সাব্বির হোসেনের বাবা আমোদ আলীসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পদযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা জুলাই আন্দোলনের চেতনা, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে বক্তারা একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজনৈতিক সহনশীলতা, সুশাসন এবং সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।



ফেসবুক কর্নার