
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন ছাড়া বর্তমান সরকারের সামনে কোনো বিকল্প পথ নেই। সরকার যদি জনগণের প্রত্যাশার বিপরীত পথে হাঁটে, তবে দেশের মানুষ তার পরিণতি নির্ধারণ করবে।
রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে গাজীপুর মহানগরের সাগর সৈকত কনভেনশন হলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস গাজীপুর মহানগরের উদ্যোগে ‘গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে’ আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জুলাই সনদ কোনো দল বা গোষ্ঠীর দাবি নয়; এটি দেশের জনগণের ন্যায্য অধিকার ও গণ-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।
তিনি বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তাই অবিলম্বে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, বাহাত্তরের সংবিধান দেশের মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন নয় এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে তিনি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জনগণের গণবিস্ফোরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
গাজীপুর মহানগরের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুফতি ফারুক আহমদ নোমানীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আলহাজ কাজী নিজাম উদ্দিন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোর্শেদ কামাল চৌধুরীর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ হাদী, বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, প্রচার সম্পাদক মাওলানা হাসান জুনাইদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ এমপি, যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা এহসানুল হক।
এছাড়া বক্তব্য দেন গাজীপুর জেলা সভাপতি শাইখুল হাদীস মাওলানা মাসউদুর রহমান, শাইখুল হাদীস মুফতি নুরুল ইসলাম, গাজীপুর মহানগর ইমাম পরিষদের সভাপতি কারী আব্দুর রহীম আল-মাদানী, বাসন থানা ওলামা পরিষদের সভাপতি মুফতি আবু নাঈম কাসেমী, কারী জুবায়ের আহমদ তাসরীফ, মাওলানা আলমগীর হোসেন আকরামীসহ মহানগর ও বিভিন্ন থানা শাখার নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানান। তারা বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে এ দাবি আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।