
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি (নজরুল)-এর স্বঘোষিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম এবং সমিতির তহবিল থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ শিক্ষকদের দাবি, সমিতির অর্থের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।
সমিতির সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জানুয়ারি সদস্যদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক সভায় শাহপুর ছোট ঘিঘাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমিনুছ সোবহানকে আহ্বায়ক এবং বানুড়িয়া বিসিএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহসান হাবীবকে সদস্যসচিব করে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। একই সভায় ৯০ দিনের মধ্যে সাধারণ সভা আয়োজন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে আহ্বায়ক নিজেকে সভাপতি এবং সদস্যসচিব নিজেকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে একটি কমিটি গঠন করেছেন। কয়েকজন প্রধান শিক্ষক দাবি করেছেন, কমিটি গঠনের বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি।
শিক্ষকদের অভিযোগ, স্বঘোষিত কমিটির নেতৃবৃন্দ সাধারণ সদস্যদের অজ্ঞাতে সমিতির সাধারণ তহবিল থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যাংক হিসাব থেকে উত্তোলন করেছেন। এর একটি অংশ কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর অবসরকালীন পাওনা পরিশোধে ব্যয় হলেও বাকি অর্থের ব্যবহারের বিষয়ে স্বচ্ছ হিসাব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়া ২০২৬ সালে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নোটবই ব্যবহারের চুক্তির মাধ্যমে একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৩৪ লাখ টাকা নগদ নেওয়ার অভিযোগও করেছেন শিক্ষকরা। তবে এসব অর্থ গ্রহণ ও আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই সরবরাহ, প্রশ্নপত্র এবং সদস্যদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়সহ বিভিন্ন খাত থেকে সমিতির তহবিলে অর্থ জমা হয়েছে। ঘরভাড়া থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ এসেছে বলে তাঁরা দাবি করেন। এসব অর্থের বর্তমান অবস্থান ও ব্যয়ের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ সদস্যরা।
এদিকে, ছয় লেনের সড়ক নির্মাণের জন্য হুকুমদখলের ক্ষতিপূরণ হিসেবে সমিতি বিপুল অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। এই অর্থ নিয়েও শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সাধারণ শিক্ষকদের আশঙ্কা, তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে অবসর গ্রহণকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
শিক্ষকদের দাবি, সমিতির ব্যাংক হিসাব ও আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অনিয়ম প্রমাণিত হলে অর্থ উদ্ধার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি ভবিষ্যতে অবসর নেওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের পাওনা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগসহ অন্যান্য অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযুক্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।