হাফিজুর রহমান কালীগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ জেন্ডার ও জলবায়ু পরিবর্তন মেলার নামে অর্ধা শতাধিক মহিলা ভাড়া করে দিনভর দায়সারা কর্মসূচি পালন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে বাংলাদেশ সেন্টার ফর কমিউনিকেশন সেন্টার প্রকল্পের (বিসিসিপি) বিরুদ্ধে। জেন্ডার ও জলবায়ু পরিবর্তন মেলার নামে জাতিসংঘ সহ সহযোগী প্রতিষ্ঠানের দেওয়া অর্থ তছরুপ করার জন্য বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর ) সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মাঠে দিনভর দায়সারা এ কর্মসূচি পালন করে ঢাকার বিসিসিপি নামক একটি এনজিও প্রতিষ্ঠান। বুধবার দিন হতে রাত অব্দি উপজেলা জুড়ে জেন্ডার ও জলবায়ু পরিবর্তন মেলার নামে ব্যাপক হারে মাইকিং করা হলেও কোন গণমাধ্যম বা সংবাদকর্মীকে সেখানে দাওয়াত দেওয়া বা জানানো হয়নি। অর্থলোপট করতে সংবাদকর্মীদের আড়াল করে এ আয়োজন করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান। মহান বিজয় দিবস পালন উপলক্ষে উপজেলা পরিষদের মাঠ আলোকসজ্জা ও সাজানো হয়। উক্ত বিজয় দিবসের প্যান্ডেল এবং বিজয় মেলার স্টল গুলো তারা ভাঙতে না দিয়ে মাঠে রেখে দেয়। বিজয় মেলার উক্ত প্যান্ডেল ও স্টলে ব্যানার লাগিয়ে এবং বিজয় মেলার স্টল গুলোতে জেন্ডার ও জলবায়ু পরিবর্তন মেলার নামে ব্যবহার করা হয়। স্থানীয় প্রেরণা, এবং বিন্দু এনজিওর থেকে অর্ধশতাধিক মহিলাকে জন প্রতি ৫০ টাকা করে দিয়ে ভাড়ায় নিয়ে এসে জেন্ডার ও জলবায়ু পরিবর্তন মেলা দায়সারা ভাবে সম্পন্ন করে। ওই সময় দেখা যায় প্রেরণা এবং বিন্দু এনজিওর কিছু ও ভাড়া করা মহিলাদের নিয়ে উপজেলা পরিষদ মাঠ দিয়ে দায়সারা ভাবে একটি শোভাযাত্রা মাঠ পরিদক্ষন শেষে উপজেলা পরিষদের বিজয় দিবসের প্যান্ডেল চত্বরে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রা শেষে বেলা ১১ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার উদ্বোধন করে চলে যান। এরপর প্রেরণা এবং বিন্দু এনজিওর ভাড়া করা মহিলাদের একটি ক্যাপ, একটি গেঞ্জি এবং এক প্যাকেট দুপুরের খাবার দিয়ে বিদায় করা হয়। এরপর ১৬ ডিসেম্বরের বিজয়মালা স্টলে জেন্ডার ও জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যানার লাগিয়ে ওই সমস্ত বিভিন্ন স্টলের মালিকদের বসিয়ে রাখা হলেও মেলার স্টল ময়দান ছিল জনশূন্য। জাতিসংঘের ইনভারমেন্ট, নিউজিল্যান্ড ফরেন অ্যাফেয়ার্স এন্ড ট্রেড সুইডেন সার্ভিস এবং সুইজ এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট এন্ড কোঅপারেশন প্রোগ্রামের অর্থায়নে ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক অপারেশন এন্ড ডেভেলপমেন্টের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশের জেন্ডার ও জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য কোটি কোটি টাকা বাংলাদেশ সেন্টার ফর কমিউনিকেশন সেন্টার প্রকল্প (বিসিসিপি) নামক একটি এনজিও সংস্থার মাধ্যমে কাজ করার কথা থাকলেও তা এইভাবে দায় সারাভাবে অর্থ তছরুপ ও লোপাট করার অভিযোগ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনসাধারণের। স্থানীয়রা বলছেন এ যেন একের ভিতর দুই ,উপজেলা পরিষদের বিজয় দিবস উদযাপনের সাজ সজ্জা ও প্যান্ডেল ব্যবহার করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য লোক দেখানো দায়সারা এ প্রকল্পের কর্মসূচি পালিত হলো। এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ মাঠ চত্বরে প্যান্ডেল নির্মাণের ডেকোরেটর মালিকের নিকট জানতে চাইলে তিনি ভাড়ার কথা অস্বীকার করেন। বাংলাদেশ সেন্টার ফর কমিউনিকেশন সেন্টার প্রকল্পের (বিসিসিপি) প্রোগ্রাম অফিসার আলী আজগর সিনিয়রের নিকট উপজেলা পরিষদ মাঠে উপস্থিত সাংবাদিক এবং জনপ্রতিনিধিরা জানতে চাইলে তিনি এই প্রকল্পে কত টাকার বরাদ্দের কথা জানাতে অস্বীকৃতি জানান। মাঠের প্যান্ডেল, চেয়ার ভাড়ার কথা বললেও তার কোন সত্যতা মেলেনি। জেন্ডার ও জলবায়ু পরিবর্তন মেলা কাদের নিয়ে এবং কোন লোকজন না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন আমরা মাইকিং করেছি লোক না আসলে আমরা কি করব। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উদ্বোধন করে চলে গেছে। পরে তাদের এই প্রোগ্রাম নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয়দের সঙ্গে বাঁধনুবাদে জড়িয়ে পড়লেও কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি। এইভাবে বিভিন্ন এনজিও গুলো বিদেশি দাতা সংস্থার অর্থ অহরহ তছরুপ লোপাট হলেও দেখার কেউ নাই।