
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় শীতের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। ঘন কুয়াশা, কমে যাওয়া তাপমাত্রা ও শীতল বাতাসের কারণে জনজীবনে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সকাল ও রাতের বেলায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় অনেক স্থানে যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
গতকাল সোমবার সাতকানিয়ায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সূর্যের দেখা মিলছে না বললেই চলে; আকাশজুড়ে ঘন মেঘ ও কুয়াশার চাদরে দিনের আলোও ম্লান হয়ে যাচ্ছে। ফলে কর্মমুখী মানুষের পাশাপাশি দিনমজুর, শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। শীতের দাপটের সঙ্গে ঠান্ডাজনিত রোগবালাইয়ের ঝুঁকিও বাড়তে শুরু করেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, দেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা আরও কমে যাওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট ও মৌলভীবাজার ছাড়া প্রায় সব জেলাতেই রাতের তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেছে। ধীরে ধীরে দেশের দক্ষিণ ও উপকূলীয় অঞ্চলেও শীত বেড়ে যাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
পার্বত্য অঞ্চলের নিকটবর্তী সাতকানিয়ার গ্রামীণ জনপদে সন্ধ্যার পর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের প্রভাবে দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকলেও রাতের তাপমাত্রা কমবে এবং কুয়াশা আরও ঘন হতে পারে। নদী অববাহিকায় মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে যশোর, চুয়াডাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ এবং নীলফামারী জেলার ওপর দিয়ে মৌসুমের প্রথম মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা কিছু এলাকায় অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী দুই দিন একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে—আংশিক মেঘলা আকাশ, শুষ্ক আবহাওয়া এবং ঘন কুয়াশা পরিস্থিতি বজায় থাকবে।
শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাতকানিয়া ও আশপাশের এলাকায় শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি, জ্বরসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে বলে স্বাস্থ্যকর্মীরা সতর্ক করেছেন। বিশেষ করে শিশুসহ বয়স্ক ও বৃদ্ধদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা শীতবস্ত্রের সংকটের কথাও জানিয়েছেন এবং শীতার্ত মানুষের পাশে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।