March 7, 2026, 4:10 am
শিরোনাম :
দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৫৯ লাখ টাকার মাদক ও ভারতীয় চোরাই পণ্য জব্দ হরমুজ প্রণালি: বিশ্ব অর্থনীতির ধমনীতে ইরানের সতর্কবার্তা কক্সবাজারে  তরুণীকে ধর্ষণ আটক ৩  এনসিপিতে ভাঙনের আভাস, পদত্যাগ করলেন জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক কলিন্স চাকমা সাংবাদিকদের ঐক্য ও সম্প্রীতিতে বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল বিজয়নগরে গরু-মহিষ চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় খামারিরা আতঙ্কিত কাজিপুরে ভুট্টাক্ষেতে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য ইবি শিক্ষিকা হত্যা: প্রধান আসামি ফজলুর রহমান গ্রেফতার, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নীলফামারীতে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রকল্পে তরুণদের ব্যাপক সাড়া শ্রীমঙ্গল পুলিশের অভিযানে পানি পাম্প ও চোরাই রাবারসহ ৬ জন আটক

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তির ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া—বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন

অভয়নগর প্রতিবেদক

পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাত, অস্থিরতা ও অশান্তির প্রেক্ষাপটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ দেশের রাজনীতি ও ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেই শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তার পূর্বশর্ত ও সংলাপের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার।
মৃত্যুর আগে দুই দফায় ক্ষমতায় থাকার সময় তিনি পার্বত্য এলাকায় শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়ন ফিরিয়ে আনতে বহুমুখী পদক্ষেপ নেন। তার আহ্বানে প্রায় ৩ হাজার শান্তিবাহিনী কর্মী অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে বলে তৎকালীন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। একই সঙ্গে বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি—বাংলাদেশের কৌশলগত ও নৃগোষ্ঠীগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে রাজনৈতিক সংলাপ, শরণার্থী প্রত্যাবাসন ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে আস্থার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চালানো হয়।
রাজনৈতিক সংলাপ ও যুদ্ধবিরতি
১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে খালেদা জিয়ার সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেয়। ১৯৯২ সালে প্রথম আনুষ্ঠানিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। তার সময়ে শান্তিবাহিনীর সঙ্গে একাধিক দফা যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী কর্নেল অলি আহমেদের নেতৃত্বে গঠন করা হয় জাতীয় শান্তি কমিটি, যার তত্ত্বাবধানে আলোচনা এগিয়ে যায়।
সাধারণ ক্ষমা ও শরণার্থী প্রত্যাবাসন
১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত সময়ে সরকার কয়েক দফা সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে ভারত থেকে প্রায় ৫৬ হাজার শরণার্থীকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ উদ্যোগের মাধ্যমে পাহাড়ি ও বাঙালি জনসম্প্রদায়ের মধ্যে সম্ভাব্য সেতুবন্ধন তৈরির চেষ্টা করেন খালেদা জিয়া।
উন্নয়নকে শান্তির হাতিয়ার
তার সরকারের সময়ে পার্বত্য এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সড়ক যোগাযোগ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হয়। সরকারের দৃষ্টিতে উন্নয়নকেন্দ্রিক উদ্যোগ শান্তি ও আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কাঠামোকেও শক্তিশালী করা হয়।
রাজনৈতিক বিতর্ক ও মূল্যায়ন
এই ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মতভিন্নতা থাকলেও বিশ্লেষকদের একটি অংশের মূল্যায়ন—শান্তির পথ তৈরি এবং সংলাপের ভিত্তি প্রতিষ্ঠায় খালেদা জিয়ার অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তারা মনে করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যেখানে ধারাবাহিক সরকারগুলোর উদ্যোগ যুক্ত হয়েছে; তবে খালেদা জিয়ার সময়টিকে শান্তির ভিত্তি নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা উচিত।
সাবেক জজ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইকতেদার আহমেদসহ একাধিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, বেগম খালেদা জিয়া পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে আন্তরিক ছিলেন। তার নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ পরবর্তীতে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করতে সহায়ক ভূমিকা



ফেসবুক কর্নার