June 4, 2026, 5:45 am
শিরোনাম :
জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে কালীগঞ্জে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল জমি বিরোধে হামলা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ, শ্রীবরদীতে মানববন্ধনে বিচার দাবি ট্রাক্টরের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধর , চালক আটক টাঙ্গাইলে মাদকসহ গ্রামবাসীর হাতে আটক কুখ্যাত মাদক কারবারি ছবুর মহাসড়ক যখন ধান শুকানোর চাতাল: রৌমারীতে বাড়ছে মৃত্যুফাঁদের ঝুঁকি কটিয়াদীতে এ.কে বাশার রতন হত্যা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে ফের হামলার অভিযোগ, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জবি রোভার স্কাউট গ্রুপের আয়োজনে ৫৩৫তম স্কাউট ইউনিট লিডার বেসিক কোর্সের উদ্বোধন বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে ঝিনাইদহে র‌্যালি ও সচেতনতামূলক আলোচনা ভোররাতের আগুনে পুড়ল হোটেল ও তেলের দোকান, ক্ষতি প্রায় ৫০ লাখ টাকা দুস্থদের মাঝে ১০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা বিতরণ

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তির ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া—বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন

অভয়নগর প্রতিবেদক

পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাত, অস্থিরতা ও অশান্তির প্রেক্ষাপটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ দেশের রাজনীতি ও ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেই শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তার পূর্বশর্ত ও সংলাপের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার।
মৃত্যুর আগে দুই দফায় ক্ষমতায় থাকার সময় তিনি পার্বত্য এলাকায় শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়ন ফিরিয়ে আনতে বহুমুখী পদক্ষেপ নেন। তার আহ্বানে প্রায় ৩ হাজার শান্তিবাহিনী কর্মী অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে বলে তৎকালীন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। একই সঙ্গে বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি—বাংলাদেশের কৌশলগত ও নৃগোষ্ঠীগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে রাজনৈতিক সংলাপ, শরণার্থী প্রত্যাবাসন ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে আস্থার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চালানো হয়।
রাজনৈতিক সংলাপ ও যুদ্ধবিরতি
১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে খালেদা জিয়ার সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেয়। ১৯৯২ সালে প্রথম আনুষ্ঠানিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। তার সময়ে শান্তিবাহিনীর সঙ্গে একাধিক দফা যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী কর্নেল অলি আহমেদের নেতৃত্বে গঠন করা হয় জাতীয় শান্তি কমিটি, যার তত্ত্বাবধানে আলোচনা এগিয়ে যায়।
সাধারণ ক্ষমা ও শরণার্থী প্রত্যাবাসন
১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত সময়ে সরকার কয়েক দফা সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে ভারত থেকে প্রায় ৫৬ হাজার শরণার্থীকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ উদ্যোগের মাধ্যমে পাহাড়ি ও বাঙালি জনসম্প্রদায়ের মধ্যে সম্ভাব্য সেতুবন্ধন তৈরির চেষ্টা করেন খালেদা জিয়া।
উন্নয়নকে শান্তির হাতিয়ার
তার সরকারের সময়ে পার্বত্য এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সড়ক যোগাযোগ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হয়। সরকারের দৃষ্টিতে উন্নয়নকেন্দ্রিক উদ্যোগ শান্তি ও আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কাঠামোকেও শক্তিশালী করা হয়।
রাজনৈতিক বিতর্ক ও মূল্যায়ন
এই ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মতভিন্নতা থাকলেও বিশ্লেষকদের একটি অংশের মূল্যায়ন—শান্তির পথ তৈরি এবং সংলাপের ভিত্তি প্রতিষ্ঠায় খালেদা জিয়ার অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তারা মনে করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যেখানে ধারাবাহিক সরকারগুলোর উদ্যোগ যুক্ত হয়েছে; তবে খালেদা জিয়ার সময়টিকে শান্তির ভিত্তি নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা উচিত।
সাবেক জজ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইকতেদার আহমেদসহ একাধিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, বেগম খালেদা জিয়া পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে আন্তরিক ছিলেন। তার নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ পরবর্তীতে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করতে সহায়ক ভূমিকা



ফেসবুক কর্নার