
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসা ইস্যু নিয়ে সাম্প্রতিক কয়েক দিন ধরে বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়েছে—বাংলাদেশিদের জন্য নাকি আমিরাতের ভিসা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে—এমন দাবি।
তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার বা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়া হয়নি। এমনকি আমিরাতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসও বলেছে, ভিসা বন্ধের বিষয়ে কোনো সরকারি ঘোষণা তাদের কাছে পৌঁছায়নি।
বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে ট্যুরিস্ট ও ওয়ার্ক ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর হয়েছে। বহু আবেদন বিস্তারিত যাচাই–বাছাইয়ের পর বাতিল হচ্ছে, আবার অনেক আবেদন দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকছে। বিশেষ করে নতুন কর্ম ভিসা এবং সাধারণ ভিজিট ভিসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা পাওয়া উল্লেখযোগ্যভাবে কঠিন হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটিকে ‘সরকারি নিষেধাজ্ঞা’ নয় বরং প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও যাচাই–প্রক্রিয়া কঠোরকরণ হিসেবে দেখতে হবে।
ইতিবাচক দিক হচ্ছে—বিশেষ যোগ্যতা, বিনিয়োগ ও পেশাগত ক্যাটাগরির ক্ষেত্রে গোল্ডেন ভিসা প্রক্রিয়া এখনো চালু রয়েছে, এবং সে শ্রেণির কিছু বাংলাদেশি ইতিমধ্যেই সেই ভিসা পাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, গুজবে কান না দিয়ে ভিসা সংক্রান্ত তথ্যের জন্য
শুধুমাত্র সরকারি ওয়েবসাইট, দূতাবাস ও নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভর করা উচিত।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়—আমিরাতের ভিসা পুরোপুরি বন্ধ নয়, তবে প্রক্রিয়া কঠোর হওয়ায় এক ধরনের বাস্তবিক সংকটে পড়েছেন বাংলাদেশি আবেদনকারীরা। পরিস্থিতির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নতুন কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত এলে তা জানানো হবে।