
এস এম সুমন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ:
শিবগঞ্জে প্রতিবন্ধী, বিধবা ও বয়স্ক সুবিধাভোগীরা ব্যাংক এশিয়ার অব্যবস্থাপনার কারণে ভাতা উত্তোলনে চরম হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। পারভিন নামের এক বিধবা জানান, তার প্রতিবন্ধী স্বামীর মৃত্যুর সওয়া দুই বছর পরও ১৫৩৯৩ টাকা ভাতা উত্তোলন করতে পারেননি। ইউনিয়ন পরিষদে জমা দেওয়া কাগজপত্র ব্যাংক এশিয়া রানীহাট্টি শাখায় জমা থাকলেও কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন তাদের সহায়তা না করে ঘুরাঘুরি করিয়েছেন।
মনাকষা পারভিন বলেন, “সোনিয়া খাতুন নামে ব্যাংক কর্মকর্তা হিসাব খোলার পর কোন রসিদ দেননি। পরে নূরে আলম সিদ্দিক নামের কর্মকর্তা কৌশলে কাগজপত্র নেন এবং ৩১ অক্টোবর টাকা উত্তোলনের জন্য ডাকলেও আবার ফিরিয়ে দেন। এর ফলে শুধু হয়রানী নয়, অনেক অর্থও ব্যয় হয়েছে।” একইভাবে প্রতিবন্ধী সুফিয়া খাতুন এবং ৭৫ বছর বয়সী জিনিয়ার বেগমও একই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন।
উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় সরজমিনে অনুসন্ধান করলে দেখা গেছে, শুধুমাত্র শাহাবাজপুর ইউনিয়নেই শতাধিক মৃত ব্যক্তির নমিনীরা ভাতা উত্তোলনে ব্যর্থ হয়েছেন। অন্যান্য ইউনিয়নেও একই ধরনের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। ভুক্তভোগীরা জানান, বারবার অনুরোধ করেও ব্যাংক এশিয়ার কর্মকর্তারা টালবাহানা করছেন, যেখানে প্রশাসন কিছু করতে পারছে না।
ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের দায়িত্ব কাগজপত্র প্রস্তুত করা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। শিবগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম ও জেলা সমাজসেবা অফিসের উপপরিচালক উম্মে কুলসুম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে, ব্যাংক এশিয়ার শাখার কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম হয়রানীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “জনবল সংকটের কারণে কিছু সমস্যা হচ্ছে, যা শীঘ্রই সমাধান হবে।”
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আজাহার আলি জানান, ব্যাংক এশিয়ার কারণে নতুন কোনো হিসাব খোলা হবে না এবং বিদ্যমান হিসাবগুলো নিয়ে ভাতা উত্তোলনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।