
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় বলেছেন, তাঁর দল শান্তিপ্রিয় এবং কোনো ধরনের বিবাদ বা সংঘাতের পথে হাঁটতে চায় না। তিনি বলেন, “যদি কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বলব সঠিক তদন্ত করতে। প্রয়োজনে বিএনপি সহযোগিতা করবে, তবে বিচার হবে স্বচ্ছ ও আইন অনুযায়ী।”
রাজশাহীর উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “রাজশাহীর কথা বললেই পদ্মা নদীর নাম আসে। কিন্তু আজ পদ্মা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রে পর্যাপ্ত পানি নেই। পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি। ধানের শীষের সরকার গঠিত হলে ইনশাআল্লাহ পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের কাজ হাতে নেব।”
তিনি শহীদ জিয়াউর রহমানের হাত ধরে শুরু হওয়া বরেন্দ্র প্রকল্পকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করে দেশকে পুনরায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার প্রতিশ্রুতি দেন। রাজশাহীকে ‘শিক্ষানগরী’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এখানে উচ্চশিক্ষিত যুবক থাকলেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান নেই। আমরা রাজশাহীর আইটি পার্ককে পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করব। এছাড়া আম চাষিদের ভাগ্য উন্নয়নে আধুনিক হিমাগার নির্মাণসহ বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করে তারেক রহমান নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “এই নির্বাচনেই সিদ্ধান্ত হবে—দেশ গণতন্ত্রের পথে চলবে নাকি অন্য পথে। আমরা সাধারণ মানুষের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালু করব।”
তিনি নির্বাচিত হলে রাজশাহীতে বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ এবং সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রদানের প্রতিশ্রুতিও দেন।
বক্তব্যের শুরুতেই স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “দীর্ঘ ২২ বছর পর আপনাদের সাথে সরাসরি দেখা হলো। সর্বশেষ ২০০৪ সালে এসেছিলাম। আপনাদের সাথে আমার আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া এই দেশ গড়েছেন। আমাদের মূলমন্ত্র—করব কাজ, গড়ব দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ।”
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুনের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান। সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত।
সভায় উপস্থিত ছিলেন হারুন উর-রশীদ, অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আবু সাইদ চাঁদ সহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
দুপুর থেকেই মাদরাসা মাঠ ও আশপাশের এলাকা নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জনসভা ঘিরে পুরো শহরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।