October 10, 2026, 3:28 am
শিরোনাম :
সড়কের বেহাল দশায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মাহমুদা মিতুর কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে হত্যা, ধানক্ষেতে ধস্তাধস্তির চিহ্ন ইজিবাইকে লিথিয়াম ব্যাটারির পরীক্ষামূলক প্রকল্প, সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সরকারের- প্রতিমন্ত্রী।  ভাঙ্গায় বাসে পুলিশের অভিযান ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার যাত্রী স্থানীয়নির্বাচনে শরিয়াহর পক্ষের শক্তিকে নির্বাচিত করুন- পীর সাহেব চরমোনাই ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ বিজিবির অভিযানে দেশীয় পিস্তল ও গুলি উদ্ধার চট্টগ্রামে দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাকের উদ্বোধন জীবনসঙ্গী হিসেবে ভালো বন্ধু ও ভ্রমণপ্রিয় পাত্র চান মিমি হুথিদের পতন ঘটিয়ে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠাই লক্ষ্য ইয়েমেনের প্রাতিষ্ঠানিক সনদ নয়, কর্মক্ষেত্রে সাফল্যে দক্ষতা জরুরি: ববি হাজ্জাজ

সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরায় নিষেধাজ্ঞা: উপকূলে জেলেদের দুর্দশা

আবু জাফর সাতক্ষীরা

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন–এ কাঁকড়া আহরণে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা চলায় উপকূলীয় জেলে পরিবারগুলো চরম সংকটে পড়েছে। নিষেধাজ্ঞার দেড় মাস পার হলেও সাতক্ষীরার শ্যামনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় বহু পরিবারের ঘরে নিত্যদিনের খাবার জোগাড় করাই কঠিন হয়ে উঠেছে।
বন বিভাগ জানায়, কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুমে উৎপাদন বৃদ্ধি ও বনজ সম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে কাঁকড়া আহরণ বন্ধ রাখা হয়েছে। এ সময়ে বনের নদী-খালে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় জেলেরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। বন বিভাগের দাবি, সাময়িক এই বিরতি ভবিষ্যতে কাঁকড়ার উৎপাদন বাড়াবে এবং দীর্ঘমেয়াদে জেলেদেরই উপকারে আসবে।
তবে বাস্তবে শ্যামনগর উপজেলা, কয়রা উপজেলা ও আশাশুনি উপজেলার বহু জেলে পরিবার বিকল্প আয়ের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গাবুরা ও বুড়িগোয়ালিনীর জেলেরা জানান, দীর্ঘদিন নদীতে যেতে না পারায় আয় বন্ধ। ধারদেনা ও এনজিওর কিস্তির চাপ বাড়ছে, বাজার খরচ মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
অনেকের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি সহায়তার আশ্বাস মিললেও তা সবার কাছে পৌঁছেনি। সময়মতো চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পেলে দুর্ভোগ কিছুটা কমত বলে দাবি তাদের।
উপকূলীয় সুন্দরবন রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক আশেক-ই-ইলাহি বলেন, বন ও প্রাণিজ সম্পদ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজনীয় হলেও এ সময়ে জেলেদের জন্য বিশেষ ভিজিএফ কার্ড, প্রণোদনা বা বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা উচিত। যথাযথ সহায়তা না থাকলে অনেকেই পেটের দায়ে আইন ভাঙতে বাধ্য হতে পারেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
নিষেধাজ্ঞার বাকি সময় কীভাবে কাটবে—এই দুশ্চিন্তায় এখন দিশেহারা সুন্দরবননির্ভর হাজারো পরিবার। উপকূলবাসীর দাবি, বন রক্ষার পাশাপাশি বননির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকাও টেকসইভাবে নিশ্চিত করতে হবে।



ফেসবুক কর্নার