March 7, 2026, 8:22 am

৮৫ বছরের আলাল মিয়ার বেঁচে থাকার সংগ্রাম: ভাঙা পা, অভাব আর অনাহারের বিরুদ্ধে এক মানুষের লড়াই

Reporter Name

রায়হান শেখ, মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোল্লাহাটে ৮৫ বছর বয়সী আলাল মিয়ার জীবন আজ দুঃখ-দুর্দশার প্রতীক। তিন জায়গায় পা ভাঙা, লাঠি ছাড়া হাঁটতে পারেন না; তবুও হাত পেতে সাহায্য চান না। ভোরে কাক ডাকার আগেই লাঠি হাতে বেরিয়ে পড়েন জীবিকার সন্ধানে। নিজের ঘামে নিজের রুটি উপার্জনের সংকল্পে প্যাডেলওয়ালা ভ্যানগাড়িতে ঝালমুড়ি বিক্রি করেই চলে তাঁর সংসার।
রাস্তাঘাট, হাটবাজার, স্কুলের সামনে—যেখানে সামান্য আয়ের সম্ভাবনা আছে, সেখানেই ছুটে যান এই বৃদ্ধ মানুষটি। অথচ ঘরে অপেক্ষা করে আরও দুঃখ—অসুস্থ স্ত্রী ও প্রতিবন্ধী ছেলে। ছয় সন্তানের জনক হলেও বার্ধক্যে কেউই পাশে নেই।
একসময় সামান্য ভিটেমাটি ছিল তাঁর। সেই জমি বিক্রি করে দুই লাখ তিরিশ হাজার টাকা দিয়ে নতুন জায়গা কেনার জন্য বাইনা করলে তা প্রতারণার মাধ্যমে হাতছাড়া হয়। সর্বস্ব বিক্রি হয়ে শেষে আশ্রয় মেলে একটি সরকারি ঘরে, যেখানে দিন এনে দিন খেয়ে কোনোমতে চলে তাদের জীবন।
সরকারি সহায়তায়ও নেই পর্যাপ্ত সাড়া। সমাজসেবা অফিসার ওসমান হামিদ জানান, তাঁর নামে শুধু একটি বয়স্ক ভাতা কার্ড আছে—মাসে ১,৬০০ টাকা। এর বাইরে আর কোনো সহায়তা দেওয়ার সুযোগ নেই। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুণ্ডু এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
একজন ৮৫ বছরের মানুষ—যিনি হাঁটতে পারেন না, ঘরে স্ত্রী ও প্রতিবন্ধী ছেলে—তাঁর জীবনের সব চাহিদার বিপরীতে মাসে মাত্র ১,৬০০ টাকা নিঃসন্দেহে অপ্রতুল।
মানুষ মানুষের জন্য—এই মানবিক বাস্তবতা যেন এড়িয়ে যাওয়ার নয়। আলাল মিয়া কারও কাছে সাহায্য চান না, কিন্তু তাঁর অসহায় জীবনের গল্প যে–কোনো মানুষকে সাহায্যের হাত বাড়াতে বাধ্য করবে। একটু সহায়তা হয়তো তাঁর শেষ বয়সের দুঃখ কিছুটা লাঘব করতে পারে।
যোগাযোগ: রায়হান শেখ, মোল্লাহাট, বাগেরহাট।
মোবাইল: ০১৭২২৪৬৭৩২৮



ফেসবুক কর্নার