March 6, 2026, 2:21 am
শিরোনাম :

অপরাধ দমনে প্রশাসন একা, নাকি সজাগ জনতাই মূল শক্তি?

অভয়নগর প্রতিবেদক

সমাজে শৃঙ্খলা, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব কি কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের? নাকি এ দায়িত্ব সমানভাবে সাধারণ নাগরিকেরও? বাস্তবতা বলছে—প্রশাসন পথ দেখায়, কিন্তু সেই পথে আলো জ্বালিয়ে রাখে সচেতন জনতা।
বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসকে ঘিরে বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের তৎপরতা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় নাগরিক সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা কতটা জরুরি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধি, মজুতদারি কিংবা নিম্নমানের খাদ্যদ্রব্য বিক্রি—এসব যেন প্রায় নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে। প্রশাসন নিয়মিত অভিযান চালালেও বাস্তবতা হলো—সর্বত্র তাদের উপস্থিতি সম্ভব নয়। এখানেই সাধারণ মানুষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনায় এই বাস্তবতা স্পষ্ট হয়েছে। ২৪ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের গোপালপুরে অবৈধভাবে পশু জবাইয়ের ঘটনায় স্থানীয় জনগণের তাৎক্ষণিক উদ্যোগে চারজনকে আটক করা সম্ভব হয়। একইভাবে, নওগাঁর ধামইরহাটে প্রতারণার মাধ্যমে ভিন্ন প্রাণীর মাংস বিক্রির অভিযোগে এক কসাইকে জনতা ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে—সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক সমাজ অপরাধ প্রতিরোধে বড় শক্তি।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—জনসচেতনতা মানে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া নয়। বরং সন্দেহজনক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দেখলে দ্রুত প্রশাসনকে অবহিত করা, তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা এবং সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলাই হলো দায়িত্বশীল নাগরিক আচরণ।
অপরাধ দমনে প্রশাসন ও জনগণ পরস্পরের পরিপূরক। প্রশাসনের ক্ষমতা আছে আইন প্রয়োগের, আর জনগণের আছে নজরদারির শক্তি। এই দুই শক্তি একত্রিত হলে অসাধু ব্যবসায়ী, মজুতদার ও প্রতারকচক্রের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।
সুতরাং সময় এসেছে ‘প্রশাসন দেখবে’—এই মনোভাব থেকে বেরিয়ে এসে ‘আমরাও দেখবো’—এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার। একটি সুস্থ, ন্যায়ভিত্তিক ও শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের দায়িত্ব সবার। প্রশাসন একা নয়—সচেতন জনতাই পারে অপরাধমুক্ত সমাজের ভিত মজবুত করতে।



ফেসবুক কর্নার