ঝিনাইদহের ফুরসন্দী ইউনিয়নে নির্বাচন-পরবর্তী সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেওয়ার জেরে বিএনপি সমর্থকদের দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পর গ্রেপ্তার ও মারধরের ভয়ে বর্তমানে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে ইউনিয়নের দুটি গ্রাম।
হামলার বিবরণ ও বর্তমান পরিস্থিতি
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ আসনে সামগ্রিকভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী জয়লাভ করলেও ফুরসন্দী ইউনিয়নের স্থানীয় মেরুকরণে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা ভোটারদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বিএনপি সমর্থিত একটি পক্ষ। অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী সময়ে বিএনপি সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
বর্তমান চিত্র:
•
নিরাপত্তাহীনতায় গ্রামবাসী: হামলার পর মামলার আতঙ্ক ও পাল্টা হামলার ভয়ে গ্রামের কিশোর থেকে বৃদ্ধ—সব পুরুষরা আত্মগোপনে চলে গেছেন।
•
গৃহবন্দি নারী ও শিশু: পুরুষরা না থাকায় গবাদি পশু ও ঘরের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে নারী ও শিশুদের।
•
জীবনযাত্রা ব্যাহত: এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করায় বন্ধ রয়েছে কৃষি কাজ ও স্থানীয় হাট-বাজারের স্বাভাবিক কেনাবেচা।
ভুক্তভোগীদের আকুতি
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তারা এখন নিজ বাড়িতেই পরবাসী। সাধারণ ভোটারদের দাবি, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের কারণে এভাবে ঘরছাড়া হওয়া চরম অমানবিক। তারা দ্রুত এই সহিংসতা বন্ধ এবং এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
“ভোট দেওয়ার পর থেকেই আমাদের ওপর জুলুম শুরু হয়েছে। বিএনপি সমর্থকরা আমাদের হুমকি দিচ্ছে। পুলিশি হয়রানি আর হামলার ভয়ে গ্রামের সব পুরুষ এখন বিলের মধ্যে বা আত্মীয়ের বাড়িতে রাত কাটাচ্ছে।” — ক্ষতিগ্রস্ত এক গ্রামবাসী।
প্রশাসনের ভূমিকা
এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার সাথে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ই অপরাধীদের ঢাল হতে পারবে না।