May 14, 2026, 11:19 am
শিরোনাম :
শ্যামগঞ্জ বাজারে আমিনুল সরকারের বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের ভয়াবহ চিত্র অতিরিক্ত সোডা ব্যবহার, নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন—জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক ঝুঁকির অভিযোগ ইপিজেডে রাস্তা দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আতঙ্কে হকার-শ্রমিকরা গর্জনিয়ায় পুলিশের অভিযানে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার ঝিকরগাছায় দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নৈশপ্রহরীর মৃত্যু যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা: রাঙামাটিতে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কুড়িগ্রামে খাদে পড়ার উপক্রম স্কুলবাস, অল্পের জন্য রক্ষা পেল শিক্ষার্থীরা শিবচরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু অতিবর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় স্থবির রৌমারী, ১৮৪ মিমি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন সরকারের উন্নয়ন বার্তা পৌঁছে দিতে গুইমারায় তথ্য অফিসের প্রেস ব্রিফিং ইবি থিয়েটারের নতুন নেতৃত্বে প্রণয় ও জ্যোতি

ডিসেম্বরেই গ্রিডে যুক্ত হবে রূপপুরের ১২০০ মেগাওয়াট: পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু জুন–জুলাইয়ে

অভয়নগর প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ পূর্ণ সক্ষমতায় ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কাজ এগোলে ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলক উৎপাদনের পর পূর্ণ উৎপাদনে যাবে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) পরিকল্পনা কমিশনে ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে এবং প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
মন্ত্রী জানান, আগামী ৭ এপ্রিল রূপপুর প্রকল্পে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফুয়েল লোডিং’ বা পারমাণবিক জ্বালানি স্থাপন প্রক্রিয়া শুরু হবে। এটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ধাপ। ফুয়েল লোডিং সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর জুন–জুলাই মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে। তবে শুরুতেই কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো হয় না। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত মান যাচাইয়ের জন্য ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হয়। সে কারণে জুন–জুলাইয়ে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হলেও ডিসেম্বর নাগাদ প্রথম ইউনিটের পূর্ণ সক্ষমতা অর্থাৎ ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে নিয়মিত সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পরীক্ষামূলক পর্যায়ে বিভিন্ন ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হবে। প্রতিটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর ধীরে ধীরে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো হবে। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে নির্মিত হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, যা রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটমের প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটিতে দুটি ইউনিট রয়েছে, প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট চালু হলে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। বিশেষ করে শিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতেও সহায়ক হবে।



ফেসবুক কর্নার