
খুলনা অফিস
খুলনার খালিশপুরে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত যুবক ঈশান উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর এই ঘটনাটি ঘটে এবং এলাকাজুড়ে শোক ও গভীর ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে। সমাজবিশ্লেষকরা বলছেন, এটি খুলনা শহরে সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে চলা খুন, ধর্ষণ, নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র অপরাধের একটি দুঃখজনক প্রতিফলন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঈশানকে রাতের অন্ধকারে কিছু দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর তার অবস্থা আরও খারাপ হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল। পথে তার মৃত্যু হয়। পরিবার অভিযোগ করেছে, এটি পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিত হামলা।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনা তদন্তে বিশেষ টিম কাজ করছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে স্থানীয় জনগণ অভিযোগ করেছেন—খালিশপুরসহ সারা খুলনা শহরে অপরাধীচক্রের দাপট বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অপরাধ দমন কার্যক্রমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি যথেষ্ট নয়।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, খুলনা শহরে ছিনতাই, খুন, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, সন্ত্রাসী হামলা, মাদক–অস্ত্র ব্যবসা এবং কিশোর গ্যাং সক্রিয়তা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়ও রাতের বেলা টহল কম থাকায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা বলছেন, একের পর এক হত্যাকাণ্ড, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং অপরাধীদের বেপরোয়া আচরণ প্রমাণ করছে—শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম সংকটে রয়েছে। ঈশানের মৃত্যু এ পরিস্থিতির সাম্প্রতিক উদাহরণ।
ঈশানের মৃত্যুতে খালিশপুর এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে। এলাকাবাসী দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। সচেতন মহল মনে করছেন, খুলনা শহরে অপরাধ দমন, যুবসমাজের সুরক্ষা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই কঠোর ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া অত্যাবশ্যক।