
দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ফেরাতে এবং বিতর্কিত নিয়োগ পুনর্বিবেচনার লক্ষ্যে ২২টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এসব ব্যাংকের পর্ষদে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। তবে সেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ও কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় বর্তমান সরকার তা পুনরায় পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলা দূর করাকে অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ড. আহসান এইচ মনসুরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েকটি ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেয় এবং কিছু ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নেয়। বিশেষ করে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোকে নিয়ে একটি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে এসব উদ্যোগে প্রত্যাশিত ফল না আসায় এবং নিয়োগপ্রাপ্তদের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় নতুন করে পর্ষদ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম ও পর্ষদ সদস্যদের যোগ্যতা যাচাই করছে। যেসব ব্যাংকে করপোরেট সুশাসন দুর্বল এবং খেলাপি ঋণের ঝুঁকি বেশি, সেসব ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষ পেশাদারদের পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের ৬১টি তফসিলভুক্ত ব্যাংকে সুশাসন নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পর্ষদে দক্ষ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি না হলে এই খাত দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে এখনো বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো আদেশ জারি হয়নি। তবে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ব্যাংকগুলোর পর্ষদে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে, যা আর্থিক খাতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।