April 23, 2026, 4:05 pm
শিরোনাম :
শিবগঞ্জে টানা চুরির ঘটনায় আতঙ্ক, চার দিনে ১৩ বাড়িতে সিঁধ কাটা মান্দায় জমি বিরোধে সাত বিঘার বোরো ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ ব্যবসা নিয়ে সংঘর্ষ মামলায় এনায়েতনগর যুবদলের তিন নেতা জামিনে মুক্তির পথে সিংগাইরে নারীর মরদেহ উদ্ধার, রহস্য উদঘাটনে ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় পুলিশ শেরপুরে জমি দখলের অভিযোগে উত্তেজনা, জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের দাবি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শিক্ষকম্পতিকে লাঞ্ছনার অভিযোগ কমলনগরে ‘খলিল বাহিনী’ আতঙ্ক: ধর্ষণচেষ্টা, চুরি-ডাকাতির অভিযোগে উত্তাল জনপদ দেড় মাস ধরে আদালত চত্বরে ময়লার স্তূপ, দুর্ভোগে বিচারপ্রার্থী ও ব্যবসায়ীরা নলডাঙ্গায় আগুনে কৃষকের ৮টি ছাগল পুড়ে ছাই, ক্ষতি প্রায় ২ লাখ টাকা প্রধান শিক্ষকের অবহেলায় এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারল না শিক্ষার্থী

খার্গ দ্বীপ: মধ্যপ্রাচ্যের এক দুর্ভেদ্য সামরিক প্রহেলিকা

কে. এম. জাকির রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

পারস্য উপসাগরের বুকে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ বর্তমানে কেবল একটি ভৌগোলিক অঞ্চল নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত সামরিক শক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আয়তনে ছোট হলেও এই দ্বীপটি আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, মিসাইল প্রযুক্তি এবং শক্তিশালী সামরিক অবকাঠামোর কারণে বিশ্বজুড়ে সামরিক বিশ্লেষকদের নজর কাড়ছে।
ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়
দ্বীপটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান গড়ে তুলেছে তিন স্তরের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। প্রথম স্তরে রয়েছে দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা—রাশিয়ার এস-৩০০ এবং ইরানের নিজস্ব বাভার-৩৭৩ মিসাইল সিস্টেম, যা কয়েকশ কিলোমিটার দূর থেকে শত্রুর আকাশ হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম। পাশাপাশি Islamic Revolutionary Guard Corps-এর দ্রুতগতির সশস্ত্র নৌযান সার্বক্ষণিক টহলে থাকে।
দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যেখানে ‘নূর’ ও ‘কাদির’ ক্ষেপণাস্ত্রসহ উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি মোতায়েন রয়েছে। কোনো শত্রু জাহাজ বা নৌবহর দ্বীপের কাছে আসার আগেই তা ধ্বংস করার সক্ষমতা রয়েছে এসব ব্যবস্থার।
তৃতীয় ও অভ্যন্তরীণ স্তরে রয়েছে শক্তিশালী বাঙ্কার, মাটির নিচে স্থাপিত প্রতিরক্ষা ঘাঁটি এবং বিস্তৃত মাইনফিল্ড। এখানে ইরানের এলিট বাহিনী মোতায়েন রয়েছে, যারা যেকোনো স্থল আক্রমণ প্রতিহত করতে প্রস্তুত।
কৌশলগত গুরুত্ব ও ‘অজেয়’ অবস্থান
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্বীপ দখল করা যতটা কঠিন, তা ধরে রাখা আরও কঠিন। খার্গ দ্বীপটি ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে হওয়ায়, কোনো বাহিনী এটি দখল করলেও মূল ভূখণ্ড থেকে অব্যাহত গোলাবর্ষণের ঝুঁকি থাকবে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে দখল ধরে রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এই দ্বীপটি ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল হিসেবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এটি শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তির প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে খার্গ দ্বীপ একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘স্ট্র্যাটেজিক অ্যাসেট’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে।
সব মিলিয়ে, নিঝুম দ্বীপের মতো শান্ত অবয়বের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই সামরিক ঘাঁটিটি এখন মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।



ফেসবুক কর্নার