ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় তীব্র জনবল সংকটের কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। উপজেলার ৩৩টি সরকারি দপ্তরের মধ্যে অন্তত ১১টিতে নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকায় অন্য কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে জনসেবায় ধীরগতি তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।
উপজেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্বের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব দপ্তরের মধ্যে রয়েছে—উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, সাব-রেজিস্ট্রার, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার, উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, সহকারী প্রকৌশলী (বিএডিসি) এবং ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একাধিক দপ্তরের দায়িত্ব পালন করায় কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী সব অফিসে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। ফলে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিষ্পত্তি, সেবা প্রদান এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিলম্ব হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষকে বারবার অফিসে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি কাজ সম্পন্ন করতে কয়েকদিন ধরে দপ্তরে ঘুরতে হচ্ছে। নির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা না থাকায় সময়মতো সেবা পাওয়া যাচ্ছে না, এতে সময় ও অর্থ—দুইই অপচয় হচ্ছে।
উপজেলার দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নতুন করে জনবল নিয়োগ না হওয়ায় বিদ্যমান কর্মকর্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে, যা সেবার মানে প্রভাব ফেলছে।
এ বিষয়ে বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সখিনা আক্তার জানান, শূন্য পদগুলোতে দ্রুত জনবল নিয়োগের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, খুব শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
উপজেলাবাসীর দাবি, জনসেবার স্বার্থে দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করে প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল করা হোক।