
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে বরণ করে নিতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে পহেলা বৈশাখ। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গ্রামীণ মেলা, পান্তা-ইলিশের আয়োজন এবং নানা লোকজ উৎসবে মুখর ছিল দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা।
রাজধানীর রমনা বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে সকাল থেকেই মানুষের ঢল নামে। মঙ্গল শোভাযাত্রা, গান, নাচ ও কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা যেমন চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগেও একইভাবে পালিত হয় এ উৎসব।
জেলা পর্যায়ে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুর, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারীসহ দেশের ৬৪টি জেলাতেই স্থানীয় প্রশাসন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা আয়োজন করা হয়।
প্রতিটি জেলায় ছিল গ্রামীণ মেলা, লোকসংগীত, লাঠিখেলা, পুতুলনাচ ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এ উৎসবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সারাদেশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, ফলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব সম্পন্ন হয়।
পহেলা বৈশাখ বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অন্যতম বড় উৎসব হিসেবে আবারও প্রমাণ করেছে—ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এ দিনটি সবার মিলনমেলা।