
কুড়িগ্রামে জেলা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে ১০টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত কুড়িগ্রাম সদর থানার বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল চুরির একাধিক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে দায়ের করা একটি মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ চোর চক্রটিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, পিপিএম-এর নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মাসুদ রানার তত্ত্বাবধানে কুড়িগ্রাম থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. নওসাদ আলী ও তার টিম সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে গাজীপুরের কাশিমপুর, লালমনিরহাট সদর, কুলাঘাট, উলিপুর, নাগেশ্বরী ও ফুলবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—বাবু মিয়া ওরফে শাহজালাল (৫৫), নুর ইসলাম (৩০), খাইরুল ইসলাম বাবু (৪০), রেজাউল হাসান ওরফে বারেক (৩৮), রফিকুল ইসলাম (৪৫), মিটুল মিয়া ওরফে পাশা (২৬), খায়রুল আলম (৩৪), আজিজুল হক (৩২) ও আনিছুর রহমান (২৯)।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটি দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগর এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে কম দামে সংগ্রহ করত। পরে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে তা বেশি দামে বিক্রি করত। চক্রের কয়েকজন সদস্য আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
উদ্ধারকৃত ১০টি মোটরসাইকেলের মধ্যে ২টির মালিকানা শনাক্ত হওয়ায় সেগুলো সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তার জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একটি মোটরসাইকেল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হেফাজতে রয়েছে। বাকি ৭টি মোটরসাইকেল কুড়িগ্রাম থানায় সংরক্ষিত রয়েছে এবং মালিকানা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলমান।
এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও রাজারহাট থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।